লোন রিকভারি এজেন্টদের জুলুম রুখতে কড়া রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, আগামী অক্টোবর থেকেই বদলে যাচ্ছে নিয়ম!

ঋণ আদায়ের নামে রিকভারি এজেন্টদের লাগামহীন হেনস্থা এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঋণগ্রহীতাদের গালিগালাজ, সামাজিক হেনস্থা এবং শারীরিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই বিষয়ে নতুন খসড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এজেন্ট ও ব্যাঙ্কগুলির স্বেচ্ছাচারিতায় বড়সড় লাগাম পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
জোর-জুলুম বন্ধে কড়া বিধিনিষেধ
আরবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঋণগ্রহীতা কিংবা তাঁদের গ্যারান্টার, আত্মীয় বা বন্ধুদের কোনওভাবেই শারীরিক বা মানসিকভাবে ভয় দেখানো যাবে না। অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে হুমকি ফোন করা, সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থামূলক রেকর্ডিং আপলোড করা বা সামাজিক সম্মানহানি করাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ‘নিষ্ঠুর আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া, গ্রাহকদের সুবিধার্থে যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই ঋণ আদায়ের জন্য যোগাযোগ করা যাবে। এমনকি বিয়ে বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মতো পারিবারিক শুভ কিংবা শোকের মুহূর্তে এজেন্টরা গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে পারবে না।
বাধ্যতামূলক পুলিশ ভেরিফিকেশন ও শংসাপত্র
এজেন্টদের যথেচ্ছাচার রুখতে তাঁদের যোগ্যতা ও পরিচয় যাচাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। নতুন খসড়া অনুযায়ী, সমস্ত রিকভারি এজেন্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফিন্যান্স (আইআইবিএফ)-এর বৈধ শংসাপত্র এবং সংস্থার পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ ঋণ আদায়ের কাজে নামতে পারবেন না। গ্রাহকের বাড়িতে যাওয়ার অন্তত একদিন আগে তাঁকে আগাম জানাতে হবে এবং পরিদর্শনের সময় এজেন্সির আইডি কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্কের অনুমতি পত্র ও রিকভারি নোটিস দেখাতে হবে।
সব দায় ব্যাঙ্কের, বদলাবে গ্রাহক সুরক্ষার চিত্র
নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যাঙ্কগুলির দায়বদ্ধতার ওপর। এতদিন রিকভারি এজেন্টরা কোনও অপরাধ বা অসদাচরণ করলে ব্যাঙ্কগুলি ‘তৃতীয় পক্ষের ভুল’ বলে দায় এড়িয়ে যেত। কিন্তু এবার আরবিআই স্পষ্ট করেছে, এজেন্টদের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক সরাসরি দায়ী থাকবে। এমনকি সব নথিভুক্ত রিকভারি এজেন্সির নাম ব্যাঙ্কগুলিকে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে প্রকাশ করতে হবে। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে এই নিয়ম দেশজুড়ে কার্যকর হতে পারে, যা দেশের কোটি কোটি ঋণগ্রহীতাকে এক বড়সড় আইনি সুরক্ষা দেবে এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে।