সাত বছরের নির্বাসন শেষে ফলতায় বামেদের ফিনিক্স পাখি, ৪০ হাজার ভোট পেয়ে বাড়ি ফিরতে চান শম্ভু কুর্মী

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তথাকথিত ‘ডায়মন্ড-হারবার মডেল’ ভেঙে পড়ার এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তবে সবথেকে বড় চমক তৈরি করেছে বামেরা। দীর্ঘ এক দশক ধরে এলাকায় একচ্ছত্র দাপট চালানো জাহাঙ্গীর খানের দলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম। আর এই রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে রয়েছেন এমন এক জননেতা, যিনি বিগত সাত বছর ধরে নিজের ভিটেমাটিতে পা রাখতে পারেননি।
রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও দীর্ঘ নির্বাসনের লড়াই
ফলতার ফতেপুরের মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শম্ভু কুর্মী ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে গৃহহীন। তৎকালীন বাম প্রার্থী ফুয়াদ হালিমের হয়ে প্রচারে নামায় তাঁর ওপর নেমে আসে রাজনৈতিক প্রতি হিংসা। অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানের বাহিনীর হামলায় সে বার গুরুতর জখম হন তৎকালীন এরিয়া কমিটির সম্পাদক শম্ভু। এর পর লাগাতার বাড়িতে হামলা ও পরিবারের ওপর হুমকির জেরে প্রাণ বাঁচাতে দলীয় সিদ্ধান্তে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। গত সাত বছর ধরে আমতলায় একটি ভাড়া বাড়িতে থেকেছেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরও আমতলা থেকেই প্রতিদিন ফলতায় গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসে নির্বাচনী রণকৌশল সাজিয়েছেন তিনি।
ফলাফলের প্রভাব ও আগামীর বার্তা
ভোটের এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে, চরম প্রতিকূলতা এবং নেতার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ফলতায় বামেদের সাংগঠনিক ভিত্তি পুরোপুরি মুছে যায়নি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করা শম্ভু কুর্মীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক বড় স্বীকৃতি। এই ফলের পর এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই বদলে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে এবার নিজের চেনা সংগঠনে এবং নিজের বাড়িতে ফিরতে মরিয়া শম্ভু কুর্মী। নতুন সরকারের কাছে তাঁর স্পষ্ট আবেদন, ফলতার মাটিতে রাজনৈতিক সুস্থতা বজায় থাকুক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আগামী দিনে যেন আর কোনও ‘জাহাঙ্গীর খান’ তৈরি না হয়।