হোল্ডিং সেন্টার চালুর ২৪ ঘণ্টাতেই অনুপ্রবেশকারী আটক, নবান্নের নির্দেশে তৎপরতা মুর্শিদাবাদে

রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা শুরু হলো জেলা স্তরে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নবান্নের ‘৩ডি ফর্মুলা’ (ডিটেক, ডিলিট, ডিপোর্ট) নীতি মেনে মুর্শিদাবাদে প্রথম কার্যকর করা হলো ‘হোল্ডিং সেন্টার’। লালগোলার ‘পদ্মা ভবন’-এ তৈরি এই অস্থায়ী সেন্টারে ইতিমধ্যেই তিন জন সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হয়েছে। একই সাথে বীরভূমের কিষাণ মান্ডিতেও একই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের নির্দেশিকা এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্য প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় পড়ছেন না, অথচ বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের সাময়িকভাবে আটকে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
মৎস্যজীবী আবাসের তিন তলায় কড়া নজরদারি
মুর্শিদাবাদের লালগোলার যে পদ্মা ভবনে এই হোল্ডিং সেন্টারটি তৈরি হয়েছে, তার একটি মিশ্র ব্যবহার রয়েছে। ভবনটির প্রথম তলায় স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং দ্বিতীয় তলাটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়া। এই ভবনের তৃতীয় তলাটিকে তড়িঘড়ি হোল্ডিং সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অংশটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ার। আটককৃতদের যাবতীয় দেখভাল এবং সরকারি নিয়ম মেনে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) দপ্তরের নির্দেশে স্থানীয় হোম সার্ভিসের মাধ্যমে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
৩০ দিনের আটক ও হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত ব্যক্তিদের এই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এছাড়া পূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া যে সমস্ত বন্দিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া বা পুশব্যাক চলছে, তাঁদেরও এই সেন্টারে স্থানান্তরিত করা যাবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্য পুলিশ ধৃতদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে। পরবর্তীতে বিএসএফের মাধ্যমেই তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাঠানো আট পাতার নির্দেশিকার পর, বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের এই জরুরি পদক্ষেপ সীমান্ত জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ রুখতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।