আরও ২০ টাকা বাড়তে পারে পেট্রোল ও ডিজেল, সাধারণ মানুষের পকেটে চরম টান

আরও ২০ টাকা বাড়তে পারে পেট্রোল ও ডিজেল, সাধারণ মানুষের পকেটে চরম টান

লাগামহীন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার আমজনতা। সোমবার নতুন করে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি যথাক্রমে ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ২ টাকা ৭১ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। বিগত দুই সপ্তাহেই জ্বালানির দাম একধাক্কায় প্রায় সাড়ে সাত টাকা বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারদরে। শাক-সবজি, ভোজ্য তেল থেকে শুরু করে দুধ ও পাউরুটির মতো সামগ্রীর দাম বাড়ায় দেশজুড়ে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখানেই শেষ নয়, তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি সামাল দিতে আগামীদিনে জ্বালানির দাম আরও ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিপুল ক্ষতির মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি

টানা মূল্যবৃদ্ধির পরেও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) চড়া দামের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে লোকসান হয়েছে, তা বর্তমান বিক্রয়মূল্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি কেনা এবং বিক্রির এই ফারাক মেটাতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ২৮ থেকে ৩৩ টাকা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে আজকের বৃদ্ধির পরও বিগত কয়েকমাসের ক্ষতি সামাল দিতে অন্তত ২০ টাকা দাম বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একধাক্কায় এতখানি মূল্যবৃদ্ধি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আসাম্ভব হলেও, ধাপে ধাপে দাম বাড়ার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিগত ৭৪ দিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও ভারতের বাজারে তেল সংস্থাগুলি দাম বাড়ায়নি। গত ১৫ মে যখন প্রথমবার জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়, ততদিনে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির প্রায় ১.২ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক চার দফার মূল্যবৃদ্ধিতে তেল সংস্থাগুলির মাত্র ৭ থেকে ১১ শতাংশ ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হয়েছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই খুচরো বাজারের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। তবে আশার কথা এটাই যে, বিশ্ব বাজারে বর্তমানে ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে তেল সংস্থাগুলির পূর্বের ক্ষতিপূরণ মিটে গেলে আগামীদিনে সাধারণ মানুষ জ্বালানির চড়া দাম থেকে কিছুটা রেহাই পেতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *