উদ্বোধনের বছর কাটতে না কাটতেই বিপত্তি, ১৩৮ কোটির জয়দেব সেতুতে ফাটল ধরায় বাড়ছে উদ্বেগ!

উদ্বোধনের বছর কাটতে না কাটতেই বিপত্তি, ১৩৮ কোটির জয়দেব সেতুতে ফাটল ধরায় বাড়ছে উদ্বেগ!

অজয় নদের ওপর বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহারকে যুক্ত করতে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেই দাবি মেনেই পূর্ত দপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বহু প্রতীক্ষিত জয়দেব সেতু। গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকঢোল পিটিয়ে এই সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছিল। সেতুটি চালু হওয়ায় দুর্গাপুর থেকে বোলপুর এবং সিউড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছিল, তেমনই কমেছিল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছর পার হতে না হতেই সেতুর বেহাল দশা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নির্মাণের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ও গণক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক বছর যেতে না যেতেই সেতুর একাধিক জায়গায় রাস্তা বসে গিয়েছে এবং পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি অংশে স্পষ্ট ফাটলও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যে অংশগুলো দিয়ে নিয়মিত ভারী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার এবং অন্যান্য মালবাহী গাড়ি চলাচল করে, সেই জায়গাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের এমন কঙ্কালসার রূপ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, সেতু নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

তদন্তের দাবি ও রাজনৈতিক পারদ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে পূর্বতন সরকারকে। দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা এই কাজের তীব্র সমালোচনা করে সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হচ্ছে এবং কেন এত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলো, তা নিয়ে সরকারিভাবে তদন্তের দাবি করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনকেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বিপর্যয়

সেতুর এই দ্রুত অবনতির পেছনে ভারী যান চলাচল এবং নিম্নমানের নির্মাণকৌশলকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া সেতুটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দক্ষিণবঙ্গের একটি বড় অংশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও নিত্যযাত্রীদের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *