ক্রীড়াজগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান, টুটু বোসের প্রয়াণে শোকবার্তা ওম বিড়লার

ক্রীড়াজগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান, টুটু বোসের প্রয়াণে শোকবার্তা ওম বিড়লার

জাতীয় ক্রীড়াজগত এবং জনজীবনের এক অপূরণীয় ক্ষতি করে চলে গেলেন প্রবাদপ্রতিম ফুটবল প্রশাসক তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপনসাধন বসু, যিনি ময়দানে ‘টুটু বোস’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ৭৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহনবাগানের এই অভিভাবক। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রয়াত টুটু বোসের পুত্র সৃঞ্জয় বোসকে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এই প্রয়াণকে সমগ্র দেশের জন্য এক বিরাট ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।

মোহনবাগান ও ভারতীয় ফুটবলের অভিভাবকহীনতা

টুটু বোসের প্রয়াণ ভারতের ফুটবল প্রশাসনে একটি বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করল। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি প্রত্যক্ষভাবে মোহনবাগান ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ক্লাবের আধুনিকীকরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। লোকসভার স্পিকার তাঁর চিঠিতে স্মরণ করেছেন কীভাবে টুটু বোস দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সুদৃঢ় করতে এবং ফুটবলপ্রেমী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ময়দানের এই মহীরুহের প্রস্থান কেবল ফুটবল ক্লাবটির জন্যই নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এক বড় ধাক্কা।

বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অবসান ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ক্রীড়াক্ষেত্রের বাইরেও টুটু বোস ছিলেন একজন সফল বাঙালি ব্যবসায়ী, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ এবং বিশিষ্ট জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ও আজ তাঁর প্রয়াণে অভিভাবকহীন। রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক মহলে তাঁর এই প্রস্থান গভীর প্রভাব ফেলবে, কারণ তিনি ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের মধ্যে একটি মজবুত সংযোগকারী সেতু। বালিগঞ্জের বোস বাড়িতে আয়োজিত তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়ায় ক্রীড়া, রাজনীতি ও বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সমাজ ও জনজীবনে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর ছিল। তাঁর অনুপস্থিতি আগামী দিনে ক্রীড়া প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম পরিচালনায় এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *