১৫ বছর চাকরি নেই, মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আকুল আর্জি
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
সল্টলেকের রাজনৈতিক দফতরে সোমবার সকালে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন শয়ে শয়ে মানুষ। তবে এদিনের দরবারে সবথেকে বেশি নজর কাড়ল চাকরিহারা এবং ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। মোট নয়টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবিদাওয়া জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগের দাবি
পূর্বতন সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে রাজ্যে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সল্টলেকের কার্যালয়ে একে একে সকলের অভাব-অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ২০১৬ সালের প্যানেলের বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। প্রতিনিধিদের একাংশের মতে, নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বতন প্রশাসনের ঔদ্ধত্য ও অবজ্ঞার কারণেই আজ যুবসমাজের এই পরিণতি। শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, চরম দুর্নীতির কারণে গত ১৫ বছর ধরে এই ক্ষেত্রে কোনও নিয়োগ হয়নি, যা অবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের নতুন সরকার সব দফতরের কাছে শূন্যপদের সংখ্যা জানতে চেয়েছে, যা আগামী দিনে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেক অফিসে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়ে ‘অন স্পট’ বা দ্রুত সমাধানের এই বিশেষ কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও করার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন সরকারের। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের এই বিপুল ঢল এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস শেষ পর্যন্ত কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।