এজেন্টদের ম্যাজিক নাকি অন্য কিছু, কীভাবে পাবেন রেলের কনফার্ম তৎকাল টিকিট?

এজেন্টদের ম্যাজিক নাকি অন্য কিছু, কীভাবে পাবেন রেলের কনফার্ম তৎকাল টিকিট?

সাধারণ যাত্রীরা যখন মাসের পর মাস চেষ্টা করেও রেলের একটি কনফার্ম তৎকাল টিকিট পাচ্ছেন না, তখন এজেন্টদের কাছে গেলেই মুহূর্তে মিলছে কনফার্ম টিকিট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ রেলযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দুই-ই বাড়ছে। আইআরসিটিসি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে বুকিং উইন্ডো খোলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যেখানে সমস্ত টিকিট শেষ হয়ে যায়, সেখানে এজেন্টরা কোন জাদুবলে নিশ্চিত টিকিট হাতে পেয়ে যান, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।

নিয়মের বেড়াজাল ও এজেন্টদের বুকিং সময়

রেল মন্ত্রকের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, তৎকাল টিকিটের গণ বুকিং রুখতে বুকিং উইন্ডো খোলার প্রথম ৩০ মিনিট অনুমোদিত টিকিট এজেন্টদের বুকিং করার অনুমতি দেওয়া হয় না। এসি ক্যাটাগরির তৎকাল টিকিট বুকিং সকাল ১০টায় শুরু হলেও এজেন্টরা সকাল ১০:৩০টা পর্যন্ত কোনও টিকিট কাটতে পারেন না। একইভাবে, নন-এসি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সকাল ১১টায় উইন্ডো খুললেও এজেন্টদের জন্য তা খোলে ১১:৩০টায়। এছাড়া, গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে কাউন্টার এবং অনুমোদিত এজেন্টদের মাধ্যমে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে যাত্রীর মোবাইল নম্বরে ওটিপি ভেরিফিকেশনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্রুত টিকিট পাওয়ার নেপথ্য কৌশল

রেলওয়ের তরফ থেকে এজেন্টদের কোনও বিশেষ কোটা বা বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না। তা সত্ত্বেও আধ ঘণ্টা পরে বুকিং করেও তারা কীভাবে কনফার্ম টিকিট পাচ্ছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনও আইনি বা প্রকাশ্য ব্যাখ্যা নেই। তবে জানা গেছে, এজেন্টরা মূলত অত্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং ‘অটোফিল’ প্রযুক্তির মতো ডিজিটাল টুল ব্যবহার করেন। সাধারণ যাত্রীরা যখন নাম, বয়স এবং গন্তব্য টাইপ করতে ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় নেন, তখন এজেন্টরা এই টুলগুলির সাহায্যে মাত্র ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ফর্ম পূরণ করে ফেলেন। আগে থেকেই তৈরি রাখা ‘মাস্টার লিস্ট’ এবং ক্যাপচা দ্রুত সমাধানের কিছু বিশেষ সফটওয়্যারও তাদের এই কাজে সাহায্য করে।

প্রভাব ও আইআরসিটিসি-র ভূমিকা

এজেন্টদের এই অন্যায্য আধিপত্যের কারণে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে টিকিট কাটছেন, যা পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও আইআরসিটিসি বর্তমানে স্ক্রিপ্ট এবং অবৈধ অটোমেশন রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অ্যান্টি-বট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তবুও এই চক্র পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অনলাইন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আধার-যাচাইকৃত ইউজারদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও এজেন্টদের এই গোপন কৌশলের কারণে রেলের সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *