নোটিস ছিঁড়ে ফেলার ৭ দিন পর হঠাৎ কী বললেন অভিষেক?

হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ও ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার ঠিকানায় পাঠানো কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) নোটিস ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পুরকর্মীদের দিয়ে যাওয়া নোটিস সাংসদের বাউন্সার কর্তৃক ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার ঠিক সাত দিন পর এবার আইনি ও রাজনৈতিকভাবে পাল্টা চাল দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। প্রাথমিকভাবে জবাব দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় চাইলেও, শেষ পর্যন্ত সুর নরম না করে পুরনিগমের এক্তিয়ার ও উদ্দেশ্য নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা চিঠিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
পুরনিগমের অ্যাসেসমেন্ট ও বিল্ডিং বিভাগের পক্ষ থেকে সাংসদের শান্তিনিকেতন নামের বাড়ি এবং তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা কালীঘাটের বাড়িতে মোট দুবার নোটিস পাঠানো হয়। প্রথম নোটিসে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। রবিবার পাঠানো পাল্টা জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’। বিল্ডিং নিয়মের ঠিক কোন জায়গায় বিচ্যুতি ঘটেছে বা কোন অংশটি বেআইনি, চিঠিতে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন সাংসদ। নিয়মের তোয়াক্কা না করে কেন তড়িঘড়ি এই নোটিস পাঠানো হলো, সেই আইনি প্রশ্নও তোলা হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে।
প্রভাব ও পরবর্তী পরিস্থিতি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরনিগম ও শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক নজিরবিহীন টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এর আগে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ অভিষেক পুরনিগমের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নোটিস ছেঁড়ার ঘটনাটি আমলাতান্ত্রিক স্তরে যে অস্বস্তি তৈরি করেছিল, পাল্টা চিঠির মাধ্যমে সাংসদ তা আইনি লড়াইয়ের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন। কলকাতা পুরনিগম সূত্রে খবর, সাংসদের তোলা প্রশ্নের জবাবে তাঁকে যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে, যার ফলে এই আইনি বিতর্ক আগামী দিনে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।