বয়সের ফারাক ২৬ বছর! প্রেম থেকে বিয়ে, তারপর কিশোরের এক সিদ্ধান্তে তোলপাড়

সোশ্যাল মিডিয়ার মোহ যে কতটা অন্ধ হতে পারে, তার আরও একটি নজির দেখল দেশবাসী। ইনস্টাগ্রামের ‘রিল’ দেখে শুরু হওয়া প্রেম শেষ পর্যন্ত থানা-পুলিশে গিয়ে ঠেকল। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জে চার সন্তানের মা এক চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা তাঁর নিজের বড় ছেলের চেয়েও ৫ বছরের ছোট এক কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। মহিলার দাবি, চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ওই ১৪ বছরের কিশোর তাঁকে বিয়ে করার পর এখন আর সম্পর্কে থাকতে চাইছে না। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে আলাপ ও রূপকথার অবসান
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত কিশোর আদতে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা এবং সে তার বাবার সঙ্গে থাকে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী মহিলার আসল বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের তৈরি রিল পছন্দ করার সূত্র ধরেই তাঁদের আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা। মহিলার দাবি অনুযায়ী, বয়সের বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁরা বিয়েও করেন। তবে বেশ কিছুদিন একসঙ্গে থাকার পর হঠাৎ করেই কিশোরটির মোহভঙ্গ হয় এবং সে এই আসাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। বিচ্ছেদের এই দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই মহিলা উত্তরপ্রদেশের নওতানওয়া থানার দ্বারস্থ হন।
পুলিশের মধ্যস্থতায় রফা ও সামাজিক উদ্বেগ
থানায় প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের হলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত বা আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়ায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের আলোচনার পর বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়। মহিলা জানিয়েছেন, তিনি আর কোনো আইনি পদক্ষেপ করতে চান না। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে তাঁরা আর কেউ কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখবেন না।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সন্তানরা ইন্টারনেটে ঠিক কী করছে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।