দু’টি মোবাইল উধাও, বাড়ছে জল্পনা! শান্তনুর ফোনে কী এমন ছিল?

দু’টি মোবাইল উধাও, বাড়ছে জল্পনা! শান্তনুর ফোনে কী এমন ছিল?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাত থেকে বাঁচতে পুকুরে মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার জমি দখল মামলায় ধৃত কলকাতা পুলিশের অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে একইভাবে মোবাইল ফোন গায়েব করার অভিযোগ উঠছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সূত্রে খবর, গত ১৫ মে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার সময় শান্তনুর কাছে তাঁর দু’টি মোবাইল ফোনের একটিও ছিল না। ফলে গ্রেফতারির পরও তাঁর কাছ থেকে কোনও ডিজিটাল নথি উদ্ধার করতে পারেননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন ফোনের হদিস জানতে চাইলে এই পুলিশকর্তা দাবি করেন, তাঁর ফোন দু’টি হারিয়ে গিয়েছে। তবে পোড়খাওয়া এই অফিসারের এমন সরল বয়ান একেবারেই বিশ্বাস করতে রাজি নন তদন্তকারীরা।

তথ্যের খনি আড়াল করার চতুর কৌশল

গোয়েন্দাদের অনুমান, ফার্ন রোডের বাড়িতে ইডি হানার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপন করেছিলেন এই পুলিশকর্তা। গত ৯ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ১৫ মে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়া পর্যন্ত নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন শান্তনু। পেশাদারি অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ভালই জানতেন যে তাঁর ফোন দুটি আসলে তথ্যের খনি। শুধু এই জমি দখল মামলাই নয়, আরও অনেক রাঘববোয়ালের কেলেঙ্কারির খতিয়ান ফাঁস হতে পারত ওই ফোন থেকে। তিনি যদি ফোনের ডেটা মুছে বা ডিলিটও করে দিতেন, তা হলেও আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব ছিল। উল্টে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ নষ্টের আইনি ধারা জোরালো হতো। সেই কারণেই অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ফোন দুটিকে পুরোপুরি গায়েব করে ফাঁকা হাতে ইডি দফতরে হাজির হন তিনি।

সহযোগীদের সূত্রে মিলছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অভিযুক্ত নিজের ফোন সরালেও এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত তথা ব্যবসায়ী জয় ওরফে জয়েশ কামদারকে আগেই গ্রেফতার করেছে ইডি। জয়ের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করার পর সেখান থেকে তদন্তের একাধিক চাঞ্চল্যকর সূত্র মিলেছে। বিশেষ করে জয়ের হোয়াটসঅ‍্যাপ চ্যাট ঘেঁটে সোনা পাপ্পু এবং পুলিশকর্তা শান্তনুর সঙ্গে জোরপূর্বক জমি দখল সংক্রান্ত একাধিক কথোপকথন ও অকাট্য তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। এর পাশাপাশি, সম্প্রতি শান্তনু-ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর রাহুল আমিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর ফোনটিও জব্দ করেছে ইডি। এই সমস্ত সূত্র থেকে শান্তনুর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব খাটানোর বড় প্রমাণ মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনি জটিলতা ও প্রযুক্তির নজরদারি

ফোন হারানোর সপক্ষে শান্তনু পুলিশের কাছে কোনও নিখোঁজ ডায়েরি বা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কি না, ইডি আধিকারিকদের এই প্রশ্নের মুখে তদন্তে নতুন মোড় আসে। শান্তনু স্বীকার করেন, তিনি কোনও আইনি অভিযোগ জানাননি, যা তাঁর বয়ানের অসততাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ফোন লুকিয়ে ফেললেও পার পাচ্ছেন না এই পুলিশকর্তা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ইতিমধ্যেই গোয়েন্দারা জেনে ফেলেছেন, শেষ কোন কোন জায়গায় শান্তনুর মোবাইল দুটি সচল ছিল। সেই মোবাইল টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই এখন উধাও হওয়া ফোন দুটির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এই ফোন দুটি উদ্ধার হলে মামলার তদন্তে যেমন বড় অগ্রগতি আসবে, তেমনই শান্তনুর আইনি সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *