হিমন্ত শর্মার মাস্টারস্ট্রোক, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ আসাম বিধানসভায়

আসামে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার আসাম বিধানসভায় ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, আসাম, ২০২৬’ বিল পেশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার হয়ে বিলটি বিধানসভায় তোলেন রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা। দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা আসামে এই আইন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। এই বিলের মাধ্যমে রাজ্যে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর বিজেপি শাসিত তৃতীয় রাজ্য হিসেবে আসামে এই ঐতিহাসিক বিল পেশ করা হলো।
নারীর অধিকার রক্ষা ও বিরোধীদের আপত্তি
সরকারের দাবি, সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে এবং পারিবারিক সমস্যা দূর করতেই একাধিক বিয়েকে বেআইনি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে সরকারি নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিলটি পেশ হতেই বিধানসভায় তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছে শাসকদল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাইজর দলের মতো বিরোধী পক্ষগুলোর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন আনার আগে সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। এই বিল মানুষের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেও বিরোধী শিবিরের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
বিল পাসের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
আসাম সরকার অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই আইন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আনা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই জানিয়েছেন যে, আসামের প্রস্তাবিত ইউসিসি অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় আলাদা এবং এটি ‘আসাম মডেল’ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উপজাতি সম্প্রদায়ের অধিকার ও ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর আসামে এই বিল পেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হতে পারে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।