লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পুরুষ তৃণমূল নেতার অ্যাকাউন্টে ! টাকা ফেরতের দাবি ও আইনি হুঁশিয়ারি বিজেপির

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য চালু হওয়া সরকারি প্রকল্পের টাকা ঢুকছে খোদ পুরুষের পকেটে! রাজ্যের ক্ষমতা বদলের পর যখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ রূপান্তরিত হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে’, ঠিক তখনই পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক তৃণমূল নেতার নাম উপভোক্তার তালিকায় থাকা ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একজন পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে ওই নেতার নাম তালিকায় এল, তা নিয়ে তৃণমূল জমানার আরও একটি ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি।
মহিলাদের প্রকল্পের তালিকায় তৃণমূল নেতা
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকায়। অভিযুক্ত উত্তম কুমার সাউ পেশায় একজন ঠিকা কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। বিজেপির অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়েছিলেন ওই নেতা। সম্প্রতি সেই তালিকা সামনে আসতেই দেখা যায়, উপভোক্তার জায়গায় স্পষ্টাক্ষরে কোনো মহিলার পরিবর্তে ওই তৃণমূল নেতার নাম জ্বলজ্বল করছে।
টাকা ফেরতের দাবি ও আইনি হুঁশিয়ারি বিজেপির
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাতের স্পষ্ট প্রমাণ। অবিলম্বে ওই তৃণমূল নেতাকে সরকারি কোষাগারের টাকা ফেরত দিতে হবে বলে দাবি তুলেছে পদ্ম শিবির। এই বিষয়ে তারা খুব শীঘ্রই প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
টেকনিক্যাল ত্রুটির দোহাই নেতা ও পঞ্চায়তের
তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে অবশ্য সাফাই দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা উত্তম কুমার সাউ। তাঁর দাবি, “আমি মূলত আমার স্ত্রীর জন্যই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আবেদনের পর কীভাবে স্ত্রীর বদলে আমার নাম তালিকায় চলে এল, তা আমার জানা নেই। আমার শুধু নামটাই তালিকায় আছে, কিন্তু লিঙ্কড থাকা ফোন নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি আমার স্ত্রীর। আমার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ঢোকেনি। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি নিয়ে মাতামাতি করছে।” এই ভুলের সংশোধনের জন্য তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত আবেদন জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, মনোহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই জানিয়েছেন, বিষয়টি আগে তাঁদের জানা ছিল না। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁরা নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। এর পেছনে বড় কোনো জালিয়াতি নাকি ফর্মে কোনো ‘টেকনিক্যাল’ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে রাজ্যে সরকার বদলের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রকোনায় রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে।