চমকে দেবে আরশোলার দুধের পুষ্টিগুণ, গরু-মোষের চেয়েও মিলবে তিন গুণ বেশি শক্তি!

রান্নাঘরের নোংরা কিংবা রোগের বাহক হিসেবে পরিচিত যে আরশোলাকে দেখলেই সাধারণ মানুষের গা ঘিনঘিন করে ওঠে, সেই পতঙ্গই এবার পুষ্টির এক নতুন ভাণ্ডার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, আরশোলার বিশেষ কিছু প্রজাতি থেকে উৎপাদিত দুধ এবং আটা মানুষের শরীরের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের এই নতুন আবিষ্কার খাদ্যবিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে।
গরুর দুধের চেয়ে ৩ গুণ বেশি প্রোটিন
‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ‘ডিপ্লোপটেরা পাঙ্কটাটা’ নামের এক বিশেষ প্রজাতির আরশোলা সরাসরি বাচ্চার জন্ম দেয় এবং তাদের পুষ্টির জন্য এক ধরনের তরল নিঃসরণ করে। এই তরলটি শুকিয়ে প্রোটিন ক্রিস্টালে পরিণত হয়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই ক্রিস্টাল থেকে যে শক্তি বা এনার্জি পাওয়া যায়, তা মোষের দুধের চেয়ে প্রায় তিন গুণ এবং গরুর দুধের চেয়ে অনেক বেশি। এই দুধে ওলেইক অ্যাসিড, কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, যা সাধারণ দুধে খুব সীমিত পরিমাণে থাকে।
তৈরি হচ্ছে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ আটা
আরশোলার কার্যকারিতা শুধু দুধেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রাজিলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘নওফোয়েটা সিনারিয়া’ প্রজাতির আরশোলা শুকিয়ে এক ধরনের বিশেষ আটা বা ‘ইনসেক্ট ফ্লাওয়ার’ তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ গমের আটার তুলনায় অনেক বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ। মার্কিন কৃষি দফতরের (USDA) তথ্যমতে, যেখানে ১০০ গ্রাম মটনে প্রায় ২৭.১ গ্রাম প্রোটিন থাকে, সেখানে আরশোলায় প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, রেড মিটের চেয়েও এতে প্রোটিন বেশি এবং এতে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাটের ঝুঁকিও নেই। উপরন্তু, এই আটায় মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৮টি অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ওমেগা–৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যতের খাদ্য সঙ্কট ও সম্ভাব্য প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য ও প্রোটিনের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় এই আবিষ্কার বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। যদিও মনস্তাত্ত্বিক কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে আরশোলা থেকে তৈরি খাবার গ্রহণ করাটা বেশ অস্বস্তিকর এবং বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে কম খরচে এবং সহজে বিপুল পরিমাণ পুষ্টি সরবরাহের উৎস হিসেবে ‘ককরোচ মিল্ক’ ও ‘ইনসেক্ট ফ্লাওয়ার’ আগামী দিনে বিশ্ব খাদ্য বাজারে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।