শান্তি আলোচনার মাঝেই উত্তাল পশ্চিম এশিয়া, হরমুজের কাছে ইরানি ঘাঁটিতে মার্কিন মিসাইল হামলা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে শান্তি আলোচনা এবং সংঘর্ষবিরতি চলার মাঝেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়া। সোমবার রাতে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন বন্দর আব্বাস শহরে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানি বাহিনীর উস্কানি ও হুমকির মুখে সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষার্থে’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, এই হামলার পর পাল্টা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরান।
আত্মরক্ষার যুক্তি ও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিংস জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এলাকায় মার্কিন সেনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো পরিবেশ তৈরি করেছিল ইরানি বাহিনী। মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর সম্ভাব্য হুমকি রুখতে এবং নিজেদের সেনা সুরক্ষার্থেই এই নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার রাতের এই অভিযানে মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতার চেষ্টায় থাকা ইরানি নৌকাগুলোকে নিশানা করা হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা সংঘর্ষবিরতির চুক্তি বজায় রেখেই অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে শুধু আত্মরক্ষার খাতিরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও সংঘাতের কারণ
হামলার পরপরই দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের বিমানবন্দরের কাছে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) জানিয়েছে, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের বড়সড় আক্রমণ প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় করা হয়েছে। এর আগেও চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে, যার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দুই পক্ষের উস্কানিমূলক সামরিক অবস্থানই এই আকস্মিক সংঘাতের প্রধান কারণ।
আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান খনিজ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় এই হামলার প্রভাব আন্তর্জাতিক মহলে পড়তে বাধ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘর্ষবিরতি চলাকালীন এই আকস্মিক মিসাইল হামলা দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক শান্তি প্রক্রিয়াকে বড়সড় ধাক্কা দিল। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।