বিশ্ববাজারে তেলের বাজারে আগুন, তবে ভারতে কি ফুরিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি! বড় আশ্বাস দিল কেন্দ্র

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই দেশবাসীকে বড়সড় স্বস্তি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভারতে এই মুহূর্তে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যুদ্ধ থামলে মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই তেল সরবরাহ আবার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সম্প্রতি পরিবহন, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বন্দর ও নৌপরিবহণ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেই বৈঠকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতি তৈরি হয়নি।
সুরক্ষিত ভারত, মজুত ৭৮ দিনের ব্যাকআপ
ভারত সরকার জানিয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেশের কাছে এই মুহূর্তে ৭৮ দিনেরও বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। শুধু তেল নয়, ভারতের কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি উপাদান সার আমদানির বিষয়টি নিয়েও সরকার সতর্ক। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশেরও বেশি সার আসে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী হয়ে। সংঘাতের কারণে এই পথ ব্যাহত হলেও যাতে কৃষিকাজে প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ইতিমধ্যে বিকল্প রুট ও ব্যাকআপ ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে রেখেছে কেন্দ্র। এই সংকট সামলাতে সরকার মূলত তিনটি প্রধান রণকৌশলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
দাম বৃদ্ধির আঁচ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে
সরবরাহ সচল থাকার আশ্বাস মিললেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব কিন্তু এড়ানো যাচ্ছে না। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। দেশের তেল সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তেলের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল। যার ফলে ভোটপর্ব মিটতেই দেশে ধাপে ধাপে তেলের দাম বাড়ানো শুরু করেছে সরকার।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই কেবল পরিবহণ খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যাতায়াত খরচ বাড়ার পাশাপাশি এর একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই বাজারে দুধ ও রুটির মতো অত্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম একলাফে বেশ কিছুটা বেড়ে গিয়েছে, যা মধ্যবিত্তের পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সামগ্রিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিলেও, ভারতের অভ্যন্তরীণ মজুত এবং সরকারের দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি অন্তত এই মুহূর্তে দেশকে বড় বিপদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখছে।