চুক্তির মুখেও থামল না সংঘাত, ইরানে আমেরিকার বিধ্বংসী এয়ার স্ট্রাইক

চুক্তির মুখেও থামল না সংঘাত, ইরানে আমেরিকার বিধ্বংসী এয়ার স্ট্রাইক

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে এবং দুই পক্ষই একটি চুক্তির অন্তিম লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেই আশার আলো ফিকে করে মঙ্গলবার ভোরে ভারতীয় সময় অনুযায়ী ফের একবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাল আমেরিকা। দক্ষিণ ইরানে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি, বন্দর আব্বাস এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বোট লক্ষ্য করে এই এয়ার স্ট্রাইক চালানো হয়েছে।

হামলার কারণ ও মার্কিন সেনার দাবি

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনা ও যুদ্ধজাহাজকে বাঁচাতে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে জানান, হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি-র দুটি নৌকাকে সমুদ্রের নিচে মাইন (সি-মাইন) পাততে দেখা গিয়েছিল। মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একযোগে অভিযান চালিয়ে সেই বোট দুটি ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি মাটি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ওই ঘাঁটি থেকে আমেরিকার যুদ্ধবিমানগুলোকে নিশানা করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, যার জবাবে এই সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই আকস্মিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আবহে এই ঘটনাকে আমেরিকার চরম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও মার্কিন আধিকারিকদের একাংশের দাবি, এই স্ট্রাইক অত্যন্ত সীমিত পরিসরে করা হয়েছে এবং সংঘাত বাড়িয়ে তোলা ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নয়। তবে আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে তেহরানের পরমাণু হুমকির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *