লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে উল্টে গেল ডাবল ডেকার বাস, প্রাণ হারালেন অন্তত ৬ যাত্রী

লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে উল্টে গেল ডাবল ডেকার বাস, প্রাণ হারালেন অন্তত ৬ যাত্রী

উত্তরপ্রদেশের লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে ফের এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। দিল্লি থেকে গোরখপুরগামী একটি যাত্রীবোঝাই ডাবল ডেকার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ায় অন্তত ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ১৯ জন যাত্রী। সাতসকালে ঘটা এই দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘুমের ঘোরে নিয়ন্ত্রণহীন গতি

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দিল্লি থেকে যাত্রী নিয়ে গোরখপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল দূরপাল্লার ডাবল ডেকার বাসটি। মঙ্গলবার সকালে আওরাস থানা এলাকার অন্তর্গত লখনউ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়ের ২৬২ কিলোমিটার অংশে পৌঁছানোর সময় আচমকাই চালক চোখে ঘুম নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্রুত গতিতে থাকা বাসটি মহাসড়কের সুরক্ষামূলক রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা মারে এবং উল্টে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বহু যাত্রী বাসের জানালা দিয়ে বাইরে ছিটকে পড়েন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ এক্সপ্রেসওয়েজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ইউপিডিএ) উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ তৎপরতায় বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের লখনউ ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

বাড়তে থাকা দূরপাল্লার দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে বিশেষ করে রাতের এবং ভোরের দিকে দূরপাল্লার বাস দুর্ঘটনার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবই এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে চালকের সামান্য অসতর্কতা বা চোখের পলক পড়ার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

এই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক দুর্ঘটনা সড়ক সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে বাস প্রস্তুতকারী সংস্থা ও পরিবহন সংস্থাগুলোর জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের অভাবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে চালকদের ক্লান্তি দূর করার জন্য বাধ্যতামূলক বিরতি এবং ফিটনেস চেকিংয়ের মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে দূরপাল্লার যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *