রামচরণের নতুন ছবির গানে চটুল নাচের খেসারত, ‘আপত্তিকর’ কনটেন্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

দক্ষিণী মেগাস্টার রামচরণের আসন্ন তেলুগু ছবি ‘পেড্ডি’-র নতুন গান ‘হাল্লাল্লাল্লো’ মুক্তি পেতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। গানটিতে রামচরণের সঙ্গে অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান ও জাহ্নবী কাপুরের নাচকে কেন্দ্র করে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এই গানের কোরিওগ্রাফি এবং দৃশ্যায়নকে ‘অশালীন’ ও ‘যৌনগন্ধী’ বলে তীব্র সমালোচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ ছবিতে সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফতেহির উদ্দাম নাচ নিয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনের আপত্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাঠগড়ায় উঠল ‘পেড্ডি’।
বিতর্কের মূল কারণ ও অভিযোগের আঙুল
সমালোচকদের মতে, গানটিতে দুই নায়িকার শরীরী বিভঙ্গ এবং ক্যামেরার লেন্সে নারীশরীরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নরুচির। নেটভুবনের একাংশের দাবি, ‘পুষ্পা’ ছবির বিপুল সাফল্যের পর থেকেই তেলুগু সিনেমায় এই ধরনের অতিরঞ্জিত ও চটুল নাচের ওপর নির্ভরশীলতা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি এই গানের কোরিওগ্রাফারকে নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে, যার বিরুদ্ধে অতীতে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। একইসঙ্গে ছবির প্রচারণায় গিয়ে ক্রিকেটার জ্যাসপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে ফুটবল ও ক্রিকেটের তথ্য গুলিয়ে ফেলে ট্রোলের শিকার হয়েছেন খোদ রামচরণ, যার জন্য পরবর্তীতে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমাও চাইতে হয়েছে।
বিনোদনের চাহিদা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি পক্ষের দাবি, সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ধারার এই সিনেমাগুলোতে দর্শকের শতভাগ বিনোদন নিশ্চিত করতেই চাহিদা অনুযায়ী চিত্রনাট্য ও গানের দৃশ্যায়ন তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, সমালোচক ও সচেতন দর্শকদের মতে, গ্ল্যামার বা বিনোদনের নামে পর্দায় অশ্লীলতার প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুস্থ ধারার সিনেমা সংস্কৃতির স্বার্থে এবং দর্শক ধরে রাখতে নির্মাতাদের আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।