কাশ্মীরে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে জামাত, জঙ্গি তৎপরতা রুখতে উপত্যকাজুড়ে এনআইএ-র মেগা অভিযান

জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ফের কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার সকাল থেকেই শ্রীনগরসহ উপত্যকার একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় একযোগে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। ২০১৯ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামাত-এ-ইসলামি (জেইআই) গোপনে পুনরায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং উপত্যকার যুবকদের জঙ্গিবাদে উসকানি দিচ্ছে— গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবর মেলার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অভিযান সফল করতে এনআইএ-র তদন্তকারীদের সঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর বিশাল বাহিনী। শ্রীনগরের পাশাপাশি দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানসহ একাধিক জেলার বিভিন্ন সন্দেহভাজন ঠিকানায় এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
জঙ্গি অর্থায়ন ও নিয়োগের ওপর বিশেষ নজর
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, নতুন জঙ্গি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নিষিদ্ধ জামাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোপন ফ্রন্ট বা সংস্থাগুলির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা। সোমবার শ্রীনগরের লালবাজারের পাশাপাশি শোপিয়ানের মোলু চিত্রগ্রাম এলাকায় জামাত ও তার ঘনিষ্ঠদের একাধিক ভবনে হানা দেয় যৌথ বাহিনী। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম’ এবং ‘সিরাজুল উলুম’-এর ভবনগুলিতে দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র পরীক্ষা করেন গোয়েন্দারা।
অভিযানের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
উসকানি ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালে জামাত-এ-ইসলামিকে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংগঠনটি গোপনে তাদের তহবিল সংগ্রহ এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
এই মেগা অভিযানের ফলে উপত্যকায় নতুন করে জঙ্গি নিয়োগের চক্রান্ত বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির আর্থিক উৎস এবং নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। সোমবারের এই দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে, যা আগামী দিনে কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে আরও বড় সাফল্যের পথ প্রশস্ত করতে পারে।