নথি ছাড়াই সিএএ-তে আবেদন, মিলবে ভারতীয় নাগরিকত্ব, বড় আশ্বাস শান্তনু ঠাকুরের

নথি ছাড়াই সিএএ-তে আবেদন, মিলবে ভারতীয় নাগরিকত্ব, বড় আশ্বাস শান্তনু ঠাকুরের

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটার ইঙ্গিত মিলল। বাংলাদেশে থাকাকালীন কোনও নথিপত্র সঙ্গে না থাকলেও এবার ভারতে সিএএ-এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। বনগাঁয় তপশিলি মোর্চার একটি অনুষ্ঠানে এসে তাঁর এই মন্তব্য বর্তমানে উদ্বাস্তুদের একাংশের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এসআইআর-এ নাম কাটা গেলেও কাউকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে না।

আবেদনের জটিলতা ও মতুয়াদের সংকট

সিএএ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মতুয়া সমাজের বহু মানুষ নাগরিকত্বের আবেদন করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন। নিয়মানুযায়ী, এই আইনে আবেদনের জন্য বাংলাদেশ বা পূর্ববর্তী বাসস্থানের আইনি নথির প্রয়োজন হচ্ছিল। কিন্তু দেশভাগের যন্ত্রণা এবং পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে রাতের অন্ধকারে খালি হাতে, এক কাপড়ে এ দেশে পালিয়ে আসা বহু মানুষের কাছেই কোনও পুরনো কাগজপত্র নেই। অনেকের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় সমস্ত প্রমাণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই নথি সংকটের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ ফর্ম পূরণ করতে পারছিলেন না এবং ভবিষ্যতে সমস্ত সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন।

বিকল্প ব্যবস্থার পথে কেন্দ্র ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই আইনি জটিলতা দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিকল্প পন্থার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার মাধ্যমে শরণার্থীদের পরিচয় প্রত্যয়িত বা সার্টিফাই করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে নথির অভাবে কেউ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত না হন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার নথিহীন উদ্বাস্তু পরিবারের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব পাওয়ার অনিশ্চয়তা দূর হবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সৃষ্ট প্রশাসনিক বিলম্ব কাটিয়ে এই প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, যা সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *