সোনাঝুরি জঙ্গল বাঁচাতে শেষমেশ নামল বুলডোজার!

বিশ্ব ঐতিহ্য বা ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাট। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক সারা বছরই এখানে ভিড় জমান। তবে এই জনপ্রিয়তার সমান্তরালেই বাড়ছিল পরিবেশ দূষণ ও বেআইনি দখলদারিত্বের দাপট। অবশেষে সোনাঝুরির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জঙ্গল রক্ষা করতে কড়া অ্যাকশনে নামল বন দপ্তর। সোমবার সকাল থেকেই শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্পীদের হাট সংলগ্ন এলাকায় চালানো হয় বিশেষ অভিযান।
বুলডোজারে রুদ্ধ চারচাকার পথ
জঙ্গলের ভেতরে অনিয়ন্ত্রিত চারচাকা গাড়ির প্রবেশ রুখতে এবার মাটি কেটে রাস্তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের অংশ হিসেবে এদিন বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে বিশাল গর্ত তৈরি করা হয়, যাতে কোনো গাড়ি জঙ্গলে ঢুকতে না পারে। গাড়ির ধোঁয়া এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ও আবর্জনা ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সোনাঝুরির পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছিল। গাড়ি চলাচল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত জঙ্গলকে দূষণমুক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উপড়ে ফেলা হলো বেআইনি সাইনবোর্ড
গত কয়েক বছরে সোনাঝুরি জঙ্গলের আশেপাশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকশো হোটেল ও রিসর্ট। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনী প্রচার ও সাইন বোর্ডে ঢেকে গিয়েছিল বনের সবুজ অংশ। এদিন বোলপুরের বন দপ্তরের আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মন এবং শান্তিনিকেতন থানার ওসি অনন্যা দে-র উপস্থিতিতে পুলিশ ও বন কর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে সেই সব বেআইনি সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলেন। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে বর্তমানে জাতীয় পরিবেশ আদালতে সোনাঝুরির এই ব্যবসায়িক হাট ও দূষণ সংক্রান্ত বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। সেই আবহে বন দপ্তরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় হাট কর্তৃপক্ষ এবং হোটেল ব্যবসায়ীরাও। প্রকৃতি ও ব্যবসার এই টানাপোড়েনের মাঝে সোনাঝুরির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।