চুপচাপ সইছে চরম যন্ত্রণা, পোষ্যের সিঁড়ি ভাঙার ভয় কি তবে আর্থ্রাইটিসের ইশারা!

চুপচাপ সইছে চরম যন্ত্রণা, পোষ্যের সিঁড়ি ভাঙার ভয় কি তবে আর্থ্রাইটিসের ইশারা!

আমাদের চারপেয়ে প্রিয় বন্ধুটি মুখ ফুটে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে না। তাই অনেক সময়ই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে বাসা বাঁধা কঠিন রোগগুলো আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। সাধারণত ৫ বছর বয়সের পর থেকেই অনেক কুকুরের মধ্যে বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। অনেকেই ভাবেন, বয়স বাড়ার কারণে হয়তো আদরের পোষ্যটি আগের মতো ছুটোছুটি করছে না। কিন্তু এই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা মানেই চরম বিপদ ডেকে আনা। হয়তো আপনার আদরের চারপেয়ে সঙ্গীটি নীরবে আর্থ্রাইটিসের মতো তীব্র যন্ত্রণাদায়ক অসুখে ভুগছে।

লক্ষণ ও বিপদের কারণ

পোষ্য কুকুর হঠাৎ সিঁড়ি ভাঙতে ভয় পাওয়া, আগের মতো চঞ্চলতা না দেখানো কিংবা হাঁটাচলায় গুটিয়ে থাকার মতো আচরণগুলো আসলে জয়েন্টের সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করে। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত পশু চিকিৎসক এবং অ্যানিম্যাল হেলথ এডুকেটর ডা. আমির আনোয়ারি (সোশ্যাল মিডিয়ায় যিনি ‘আমির দ্য ভেট’ নামে পরিচিত) বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, আধুনিক বাড়ির মসৃণ বা পিচ্ছিল টাইলস পোষ্যদের জন্য রীতিমতো বিপজ্জনক। পিচ্ছিল মেঝেতে পা পিছলে গিয়ে ওদের জয়েন্টে মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে, যা পরবর্তীতে আর্থ্রাইটিসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আদর করে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ানোর ফলে পোষ্যের ওজন বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জয়েন্টে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে হাড়ের ঘর্ষণ বাড়ে, যা এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিরোধের উপায় ও করণীয়

ডা. আনোয়ারির মতে, রোগ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধ করা অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। কুকুরের জয়েন্ট ভালো রাখতে সবচেয়ে আগে তার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফিট রাখার জন্য রোজ নিয়ম করে অল্প হাঁটাহাঁটি করানো বা সাঁতার কাটার মতো ‘লো-ইমপ্যাক্ট’ ব্যায়াম করানো জরুরি, যা কোনো অতিরিক্ত ধকল ছাড়াই জয়েন্টকে সচল ও মজবুত রাখে। পাশাপাশি, বাড়ির যে অংশগুলোতে কুকুর বেশি ঘোরাফেরা করে, সেখানে কার্পেট বিছিয়ে দিলে তারা হাঁটার সময় সঠিক গ্রিপ পাবে এবং দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, আর্থ্রাইটিসের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগে থেকেই পোষ্যকে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট এবং জয়েন্ট সাপোর্ট ফর্মুলা দেওয়া শুরু করা উচিত। একটু বাড়তি নজরদারি আর সঠিক যত্নই পারে চারপেয়ে বন্ধুর বার্ধক্যকে সম্পূর্ণ যন্ত্রণামুক্ত ও আনন্দদায়ক করে তুলতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *