শান্তিচুক্তির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা, ইরানে আচমকা জোরালো মার্কিন হামলা!

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তির সলতে পাকানোর মাঝেই ফের রণংদেহী মেজাজে অবতীর্ণ হলো আমেরিকা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন কূটনৈতিক স্তরে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ ইরানে আকস্মিক হামলা চালাল মার্কিন ফৌজ। আমেরিকার এই আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যে শান্তিচুক্তির ক্ষীণ আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, তা আপাতত গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা।
আক্রমণের নেপথ্যে আত্মরক্ষার যুক্তি
আমেরিকার দাবি, মূলত ‘সেলফ-ডিফেন্স’ বা আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই দক্ষিণ ইরানে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) জাহাজ এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার বড়সড় হুমকি ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে IRGC-র দুটি জাহাজকে মাইন পাততে দেখা যায় এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকেও মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই হুমকির পরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অভিযান চালিয়ে IRGC-র একাধিক জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশ স্পষ্ট করেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে চলমান সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়ার সরাসরি কোনো ইঙ্গিত নয়।
সমঝোতার ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট
এই হামলার ঠিক দুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতেও রাজি হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়েই তাদের অবরুদ্ধ সম্পদের একাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত না করলে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব নয়। সম্পদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটল। কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে চলতে থাকা এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয় এবং তেহরান এই হামলার জবাবে কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।