সীমান্ত সুরক্ষায় কোনো আপোশ নয়! ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষের হুঁশিয়ারি বিধায়কের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেখলিগঞ্জ ব্লকের তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকার ‘জিরো পয়েন্টে’ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। উন্মুক্ত সীমান্তে বেড়া দেওয়ার লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের মাপজোক ঘিরে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও, তা সামাল দিয়ে ফের জোরকদমে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক দধিরাম রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ও সীমান্তের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো প্রকার আপোশ করা হবে না এবং আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ভাইরাল বিজিবি-র প্রাক্তন প্রধানের পুরনো ভিডিও
সীমান্তের এই উত্তেজনার আবহেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন বিজিবি (BGB) প্রধান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর একটি পুরনো বক্তব্য। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ২০১০ সালের ঐতিহাসিক তিনবিঘা চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে যেমন করিডর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়েছিল, তেমনই তার বিনিময়ে দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা সীমান্তে শূন্যরেখায় (Zero Line) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়েও সম্মতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাঁর দাবি, ওই চুক্তিতে স্পষ্ট স্বাক্ষর থাকার কারণে আইনিভাবে এই বেড়া নির্মাণে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার বাংলাদেশের নেই। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে মন্থন শুরু হয়েছে।
বিএসএফ-বিজিবি ফ্ল্যাগ মিটিং ও জমি মাপজোক
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন উন্মুক্ত সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি মাপজোকের কাজ শুরু হতেই প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর মধ্যে একটি জরুরি ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় সাময়িকভাবে কাজ ব্যাহত হলেও সোমবার ফের সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে জমির খতিয়ান ও মাপজোকের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেখলিগঞ্জের মোট পাঁচটি স্পর্শকাতর এলাকায় এই মাপজোকের কাজ চালানো হয়।
১০৫ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্য
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াটি সম্পূর্ণ করতে মোট ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৮০ একর জমিই রয়েছে দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা সীমান্ত এলাকায়। মূলত এই অংশটিতেই বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে কিছুটা মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেখলিগঞ্জ ব্লকে ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার কড়া বার্তা দিলেন বিধায়ক দধিরাম রায়।
- তিনবিঘা করিডর সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে জমি মাপজোক ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়।
- বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর সোমবার ফের নির্বিঘ্নে ৫টি এলাকায় জমি মাপজোকের কাজ সম্পন্ন করেছে ভূমি দফতর।
- ২০১০ সালের চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে বেড়া নির্মাণে বাংলাদেশের আইনি বাধা না থাকার বিষয়ে প্রাক্তন বিজিবি প্রধানের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
- উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য মোট ১০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৮০ একরই দহগ্রাম-অঙ্গারপোঁতা এলাকায়।