পেনশনের বোঝা থেকে মুক্তি চান পুরকর্তারা! বকেয়া মেটাতে বিজেপি বিধায়কদের দ্বারে তৃণমূলের চেয়ারম্যানরা

পেনশনের বোঝা থেকে মুক্তি চান পুরকর্তারা! বকেয়া মেটাতে বিজেপি বিধায়কদের দ্বারে তৃণমূলের চেয়ারম্যানরা

রাজ্যের পুরসভাগুলির আর্থিক অবস্থা কার্যত শোচনীয়। নিজস্ব আয়ের উৎস সীমিত হওয়ায় ভাঁড়ে মা ভবানী দশা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, কর্মীদের অবসরভাতা বা পেনশনের বিপুল আর্থিক দায় থেকে স্থায়ী অব্যাহতি চাইছেন পুরকর্তারা। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—একের পর এক পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারম্যানরা এবার তাঁদের এলাকার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের কাছে এই মর্মে লিখিত ও মৌখিক দরবার শুরু করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গেছে।

নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার পুরসভাগুলিতে সৌজন্য সফরে গিয়েছিলেন বিজেপির নতুন বিধায়কেরা। সেখানেই পুরসভার ‘হাঁড়ির হাল’ তুলে ধরে পেনশনের সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার রাজ্য সরকারের কাঁধে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের পুরপ্রধানরা।

লেজেগোবরে অবস্থা পুরসভাগুলির: সরব চেয়ারম্যানরা

পুরসভা সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ম অনুযায়ী পুরকর্মীদের অবসরভাতার ৬০ শতাংশ টাকা পুরসভাকে নিজস্ব তহবিল থেকে জোগাড় করতে হয় এবং বাকি ৪০ শতাংশ টাকা দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ৬০ শতাংশের বোঝা বহন করা পুরসভাগুলির পক্ষে আসাম্ভব হয়ে উঠেছে। গ্রেড অনুসারে পুরসভাগুলিকে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা শুধুমাত্র পেনশন বাবদ খরচ করতে হয়।

  • বালুরঘাট পুরসভা: পুরপ্রধান সুরজিৎ সাহা জানান, কর্মীদের অবসরভাতার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁদের লেজেগোবরে অবস্থা। প্রতি মাসে এই পুরসভাকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পেনশন বাবদ খরচ করতে হয়। রাজ্য এই দায় নিলে তাঁরা বাঁচেন।
  • ইংলিশবাজার পুরসভা: বর্ষীয়ান পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী জানান, ইংলিশবাজার পুরসভাকে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা পেনশনের জন্য বরাদ্দ করতে হয়। রাজ্য সরকার এই দায়িত্ব পুরোপুরি নিয়ে নিলে পুরপরিষেবার কাজে বাড়তি গতি আসবে।
  • বৈদ্যবাটি পুরসভা: হুগলির এই পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত জানান, নতুন বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং পুরসভায় এলে তাঁর কাছে পেনশনের দায় পুরোপুরি রাজ্যকে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
  • উত্তর দমদম ও বরানগর: উত্তর দমদমের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস ও বরানগরের চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিকও একসুরে জানান যে, পেনশনের এই বিপুল আর্থিক দায় বহন করা তাঁদের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠছে।

আশায় বুক বাঁধছেন পেনশনভোগীরা, আশ্বাস বিজেপি বিধায়কদের

পুরকর্তাদের এই আকস্মিক পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি আশার আলো দেখছেন অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কখনো মাসের পেনশন সেই মাসে মেলে না। দু-তিন মাস অন্তর পেনশনের টাকা পাওয়ায় বৃদ্ধ বয়সে জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজ্য সরকার এই দায়িত্ব নিলে তাঁরা নিয়মিত পেনশন পাবেন বলে আশা করছেন।

অন্য দিকে, চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ এবং চাঁপদানির (বৈদ্যবাটি) বিধায়ক দিলীপ সিং স্বীকার করেছেন যে, তৃণমূলের পুরকর্তারা তাঁদের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে পুরসভার এই চরম আর্থিক সংকটের কথা এবং পুরকর্তাদের এই যৌথ দাবির বিষয়টি তাঁরা রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • আর্থিক অনটনের জেরে অবসরভাতার দায় থেকে মুক্তি চেয়ে বিজেপি বিধায়কদের দ্বারস্থ হচ্ছেন রাজ্যের পুরকর্তারা।
  • বর্তমানে পেনশনের ৬০% টাকা পুরসভাকে এবং ৪০% টাকা রাজ্য সরকারকে বহন করতে হয়, যা পুরসভাগুলির পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • বালুরঘাট, ইংলিশবাজার, বৈদ্যবাটি, উত্তর দমদম ও বরানগরের তৃণমূল চেয়ারম্যানরা একযোগে এই ভাতার দায়িত্ব রাজ্যকে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
  • চুঁচুড়া ও চাঁপদানির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কেরা পুরকর্তাদের এই সংকটের কথা রাজ্য সরকারের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *