মঙ্গলবারের জোড়া অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল উলুবেড়িয়া ও নরেন্দ্রপুর, কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা!

মঙ্গলবারের জোড়া অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল উলুবেড়িয়া ও নরেন্দ্রপুর, কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা!

মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাওড়ার উলুবেড়িয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের দুটি কারখানায় লাগা বিধ্বংসী আগুনে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছাই হয়ে গেছে। দমকল বাহিনীর দীর্ঘক্ষণের চেষ্টাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। এই জোড়া দুর্ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চল ও স্থানীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

১০ ঘণ্টার চেষ্টাতেও জ্বলছে জুট মিল

হাওড়ার বাউড়িয়ার নর্থ জুট মিলে সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ প্রথম আগুন লাগে। মিলের বি ওয়ান এবং বেল গোডাউন বিভাগে আগুন দেখতে পান কর্তব্যরত রক্ষীরা। প্রাথমিক স্তরে কারখানার নিজস্ব অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ পাট মজুত থাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে ঘটনার ১০ ঘণ্টা পার হয়ে মঙ্গলবার সকাল গড়িয়ে গেলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে ৪০ কোটি টাকা।

রাসায়নিকের জেরে নরেন্দ্রপুরে ভয়াবহতা

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় একটি কালি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সকাল থেকে কারখানায় কাজ চলার সময় আচমকাই বাসিন্দারা আগুনের শিখা দেখতে পান। কারখানাটিতে প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন অতি দ্রুত গোটা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। দাহ্য বস্তুর উপস্থিতির কারণে সেখানেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট কিংবা অসতর্কতাবশত কোনও আগুনের উৎস থেকেই এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটেছে। জুট মিল ও কালি কারখানার এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কর্মরত শ্রমিকদের রুজি-রুটির ওপর। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, দুটি ঘটনার কোনওটিতেই এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরেই ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *