আসামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পেশ, নিষিদ্ধ হচ্ছে বহুগামিতা ও বাধ্যতামূলক লিভ ইন রেজিস্ট্রেশন

অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পেশ, নিষিদ্ধ হচ্ছে বহুগামিতা ও বাধ্যতামূলক লিভ ইন রেজিস্ট্রেশন

উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর এবার আসাম। ‘এক দেশ, এক নিয়ম’ নীতিকে সামনে রেখে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর পথে বড় পদক্ষেপ করল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্য। সোমবার আসাম সরকারের পক্ষ থেকে বিধানসভায় বহুপ্রতীক্ষিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পেশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অনুপস্থিতিতে তাঁর হয়ে এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করেন রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা। এই বিলের মাধ্যমে রাজ্যে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি লিভ-ইন বা একত্রবাসের সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। তবে আসামের এই বিল পেশের পর থেকেই বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

সামাজিক সমতা ও সুরক্ষার যুক্তি সরকারের

আসাম সরকারের দাবি, সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতেই এই ঐতিহাসিক আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বহুবিবাহের মতো সামাজিক প্রথা নারীদের অধিকারকে খর্ব করে এবং পারিবারিক কলহের জন্ম দেয়। সেই কারণেই একাধিক বিয়েকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সমাজে লিভ-ইন সম্পর্কের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সম্পর্ক সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই বিলটি আসামে একত্রবাসের সম্পর্ককে প্রথমবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসছে। বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে একত্রবাসের সঙ্গীর অধিকার রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এই ধরণের সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনি অধিকারও সুরক্ষিত হবে। এই বিধিতে বিয়ের জন্য পুরুষদের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মহিলাদের বয়স ১৮ বছর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তবে রাজ্যের সামাজিক বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে আসামে বসবাসকারী তফসিলি জনজাতি বা আদিবাসীদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

আইনি হস্তক্ষেপের অভিযোগে সরব বিরোধীরা

বিলটি বিধানসভায় পেশ হতেই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাইজোর দলের মতো বিরোধী দলগুলি একযোগে তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ, এত বড় এবং সংবেদনশীল একটি আইন আনার আগে সাধারণ মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কিংবা আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। তাড়াহুড়ো করে এই বিল পাস করানোর চেষ্টার বিরোধিতা করে সব পক্ষকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি তুলেছে তারা।

বিরোধী শিবিরের মতে, এই বিল মানুষের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে, যা রাজ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই নতুন আইন তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় রীতিনীতিকে প্রভাবিত করবে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *