হালকা হাওয়াতেই কাঁপছে, শিল্পী যা জানালেন মেসির মূর্তি প্রসঙ্গে

হালকা হাওয়াতেই কাঁপছে, শিল্পী যা জানালেন মেসির মূর্তি প্রসঙ্গে

কলকাতা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লেকটাউনের মোড়ে স্থাপিত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির মূর্তিটি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ‘শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব’-এর উদ্যোগে তৈরি এই মূর্তিটি সামান্য হালকা বাতাসেই দুলতে থাকায় পথচারী ও এলাকাবাসীর মনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ভয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মূর্তিটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন খাড়া হয়েছে।

তাড়াহুড়োর জের ও শিল্পীর স্বীকারোক্তি

কুমোরটুলির খ্যাতনামা শিল্পী মন্টি পাল এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন। মূর্তিটি দোলার কারণ হিসেবে সময়ের অভাব এবং কাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। সাধারণত এই মাপের একটি বড় মূর্তি নিখুঁতভাবে তৈরি করতে অন্তত ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার চরম তাড়া ছিল। শিল্পী মন্টি পালের বক্তব্য অনুযায়ী, সুজিতদার (সুজিত বসু) বিশেষ অনুরোধে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজটি করতে হয়েছিল। কম সময়ে করতে গিয়ে মেসির মূর্তির পা দুটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সরু হয়ে গিয়েছে। যার ফলে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে মূর্তিটি দুলছে। তবে এটি আগে থেকেই দুলত এবং এর ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন শিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তৈরি হওয়া নানা কটাক্ষের জবাবে তিনি জানান, সব কাজ সবসময় নিখুঁত হয় না এবং অল্প সময়ে এটি করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

প্রশাসনের নজরদারি ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সোমবার সকালে রাজ্যের পূর্ত দফতরের বেশ কয়েকজন আধিকারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফাইবারের তৈরি হওয়ায় মূর্তির ভেতরের অংশটি অনেকটাই ফাঁপা। এ ছাড়া যে বেদির ওপর মূর্তিটি দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার মজবুত নির্মাণ নিয়েও যথেষ্ট খামতি রয়েছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।

সামনে ঝড়-বৃষ্টির মরশুম থাকায় স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রবল কালবৈশাখী বা দমকা হাওয়ায় মূর্তিটি ভেঙে পড়লে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। যদিও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে মূর্তিটি সরানো কিংবা নতুন করে সংস্কার করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *