বন্ধ হতে পারে দুয়ারে রেশন, ডিলারদের তীব্র ক্ষোভের মুখে নতুন শুভেন্দু সরকার

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘দুয়ারে রেশন’ নিয়ে বড়সড় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থা চালু রাখা আর সম্ভব নয় বলে দাবি তুলেছেন রাজ্যের রেশন ডিলাররা। সোমবার সদ্যগঠিত ‘জয়েন্ট ফোরাম ফর ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের কারণ ও ডিলারদের ক্ষোভ
রেশন ডিলারদের যৌথ মঞ্চের দাবি, দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালাতে গিয়ে তাঁদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হচ্ছে। সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিপুল পরিবহণ খরচ বাড়ছে, যার বোঝা ডিলারদের একাই বইতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় উপযুক্ত যানবাহনের অভাব এবং স্থায়ী কর্মী সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রেশন ডিলারদের দাবি, বর্তমানের এই অবাস্তব পরিকাঠামোয় ডিলারশিপ চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এই ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি ও আর্থিক সুরক্ষার দাবিও জোরালো হয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইনি জটিলতা
সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ‘দুয়ারে রেশন’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, এই প্রকল্পে সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো সুবিধা হচ্ছে না, উলটে সরকারের রাজকোষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছে এবং ডিলারদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিলারদের যৌথ সংগঠন খুব শীঘ্রই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার সঙ্গে দেখা করে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য স্মারকলিপি জমা দেবে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর রেশন ডিলারদের এই সম্মিলিত চাপ খাদ্য বণ্টন নীতিতে বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।