গ্রীষ্মের দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখবে সোনির পরিধানযোগ্য এসি

পশ্চিমবঙ্গে গরমের পারদ আকাশছোঁয়া। সকাল কিংবা দুপুর তো বটেই, এমনকি রাতেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে দরদর করে ঘামছেন সাধারণ মানুষ। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বহু মানুষকে তীব্র রোদ ও গরম মাথায় নিয়ে বাইরে বেরোতে হচ্ছে। সূর্যের প্রখর তেজ আর গুমোট গরমে অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠছে কর্মমুখী মানুষের শরীর। তীব্র তাপপ্রবাহের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এক অভিনব প্রযুক্তি বাজারে এনেছে বিশ্ববিখ্যাত ইলেকট্রনিক্স সংস্থা সোনি। বাইরে ঘুরে কাজ করার সময় শরীরকে শীতল রাখতে তারা লঞ্চ করেছে একটি পরিধানযোগ্য (ওয়্যারেবল) বিশেষ এসি ডিভাইস।
প্রযুক্তির চমক ও কার্যকারিতা
সোনির নতুন এই ডিভাইসটির নাম ‘রিওন পকেট প্রো প্লাস’ (Reon Pocket Pro Plus)। এটি মূলত একটি ছোট ও হালকা এসি ডিভাইস, যা জামাকাপড়ের নিচে অনায়াসে পরে থাকা যায়। ডিভাইসটিতে একটি স্টেইনলেস-স্টিল কুলিং প্যানেল রয়েছে, যা একটি ফ্লেক্সিবল নেকব্যান্ডের সাহায্যে ঘাড়ের পিছনের অংশে সুন্দরভাবে আটকে থাকে। এর ফলে হাঁটাচলা বা হালকা কাজকর্ম করার সময়ও ডিভাইসটি শরীর থেকে পড়ে যায় না। সংস্থার দাবি, পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় এই নতুন ডিভাইসটি প্রায় ২০ শতাংশ বেশি কুলিং পারফরম্যান্স দেবে এবং শরীরকে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি ঠান্ডা অনুভূতি প্রদান করবে।
স্মার্ট সেন্সর ও বহুমুখী সুবিধা
ডিভাইসটিতে বেশ কিছু উন্নত সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ত্বকের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠান্ডা বা গরম বাতাস নিয়ন্ত্রণ করে। হ্যাঁ, এই ডিভাইসটি শুধু গ্রীষ্মে শরীর ঠান্ডা রাখতেই নয়, শীতকালে শরীর গরম রাখতেও সমান কার্যকর। এর সাথে একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের ‘পকেট ট্যাগ’ দেওয়া হয়, যা বেল্ট বা ব্যাগে ঝুলিয়ে রাখলে চারপাশের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মেপে সেই অনুযায়ী ডিভাইসটিকে সচল রাখে। কলারযুক্ত শার্টের কথা মাথায় রেখে এতে বিশেষ এয়ার ভেন্ট বা এক্সটেনশন ভেন্ট দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ভেতরের গরম বাতাস কাপড়ের নিচে আটকে না থেকে সহজেই বাইরে বেরিয়ে যায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেটিংয়ে এর ব্যাটারি টানা ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।
বাজারমূল্য ও প্রাপ্যতা
এই আধুনিক ডিভাইসের মূল প্রভাব পড়বে পিঠের উপরের অংশে, যা পরোক্ষভাবে পুরো শরীরকেই শীতল রাখবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনির এই ‘রিওন পকেট প্রো প্লাস’ মডেলটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৯৯ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫,৫৭৮ টাকা) এবং ইউরোপের বাজারে ২২৯ ইউরো (প্রায় ২৫,৪০৯ টাকা) মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বাজারে এই বিশেষ পরিধানযোগ্য এসি ডিভাইসটি কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হবে, সে বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।