বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি করলেই সোজা জেল, কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের!

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠনের পর ‘তোলাবাজি মুক্ত’ রাজ্য গড়ার ডাক দিয়েছিল বিজেপি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কলকাতায় ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানান, দলের নাম করে কেউ তোলাবাজি করলে তার স্থান হবে জেলে।
কড়া বার্তার নেপথ্য কারণ
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে ২০৮টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই পূর্বতন সরকারের আমলের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু ক্ষমতা বদলের পর দেখা যাচ্ছে, কিছু অসাধু চক্র বিজেপির পতাকা ও নাম ব্যবহার করে কারখানা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা দাবি করছে। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতেই মূলত এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপির কোনো প্রথাগত ট্রেড ইউনিয়ন বা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন নেই, ফলে দলের নাম করে চাঁদা চাওয়ার কোনো বৈধতা কারোর নেই।
সম্ভাব্য প্রভাব ও করণীয়
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কড়া বার্তার মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া গেল। কেউ যদি বিজেপির নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করে, তবে সাধারণ মানুষকে সরাসরি নিকটবর্তী পার্টি অফিসে অভিযোগ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো বিজেপি কর্মীদের দৌরাত্ম্য কমবে, অন্যদিকে শিল্পমহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরে আসবে। এখন দেখার, রাজ্য সভাপতির এই কড়া নির্দেশ একদম নিচুতলার কর্মী ও সমাজবিরোধীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।