পুরুষ-প্রধান স্পোর্টস ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস! ফিফা বিশ্বকাপে অনন্য নজির বাঙালি মেয়ের

পুরুষ-প্রধান স্পোর্টস ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস! ফিফা বিশ্বকাপে অনন্য নজির বাঙালি মেয়ের

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফের একবার ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে চলেছেন এক বাঙালি নারী। পুরুষ-প্রধান স্পোর্টস ফটোগ্রাফির চেনা বৃত্ত ভেঙে ইতিহাস গড়েছেন আসামের মেয়ে গীতিকা তালুকদার। একমাত্র ভারতীয় নারী ফুটবল চিত্রসাংবাদিক (ফটোজার্নালিস্ট) হিসেবে ২০২৬ সালের পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপে অফিসিয়াল অ্যাক্রেডিটেশন বা স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ক্রীড়াযজ্ঞে টানা তৃতীয়বার ক্যামেরা হাতে মাঠের দায়িত্ব সামলানোর এক বিরল নজির গড়তে চলেছেন এই বাঙালি আলোকচিত্রী।

টানা তিন বিশ্বকাপে অনন্য কীর্তি

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপেও দেখা যাবে গীতিকার ক্যামেরার জাদু। ফুটবলের এই মেগা টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক কভার করার গৌরব এর আগে কোনো ভারতীয় নারী চিত্রসাংবাদিকের ঝুলিতে আসেনি। ক্রীড়া জগতের ফটো সাংবাদিকতায় পুরুষদের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও, নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ গীতিকা এর আগেও অলিম্পিক এবং আইসিসি (ICC) টুর্নামেন্টসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সফলভাবে কভার করেছেন।

সাফল্যের কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব

স্পোর্টস ফটোগ্রাফির মতো একটি চ্যালেঞ্জিং ও কঠোর পরিশ্রমসাধ্য পেশায় গীতিকার এই অবিচ্ছিন্ন সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, অদম্য ইচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক মানের কাজের দক্ষতা। বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই স্বীকৃতি বৈশ্বিক ক্রীড়া সাংবাদিকতায় ভারতের অবস্থানকে যেমন মজবুত করছে, তেমনি এই রক্ষণশীল পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেও বড় ভূমিকা রাখছে। মাঠের ভেতরের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করার এই বিরল কৃতিত্ব আগামী প্রজন্মের তরুণীদের স্পোর্টস জার্নালিজম ও ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *