পোশাক ‘পড়া’ নাকি ‘পরা’, শহরের বুকে মারাত্মক বানান ভুলের সেই বিতর্কিত হোর্ডিং অবশেষে সরল!

শহরের বুকে টাঙানো একটি তথাকথিত ‘সরকারি’ বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংয়ে মারাত্মক বানান ভুল ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র শোরগোল তৈরি হয়েছিল। মেয়েদের পোশাকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা দিতে গিয়ে বিজ্ঞাপনে পরিধান করা অর্থে ‘পরা’ শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছিল পড়াশোনা সংক্রান্ত ‘পড়া’ শব্দটি। ব্যাকরণগত এই মস্ত বড় ভুলটি নজরে আসতেই তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রশাসন ও শাসক দলকে। অবশেষে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই অতি দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেই বিতর্কিত হোর্ডিং।
বিভ্রান্তি ও মন্ত্রীর তীব্র ক্ষোভ
বিতর্কিত ওই বিশালাকার হোর্ডিংটিতে জ্বলজ্বল করছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ছবি। সেখানে লেখা ছিল, “মেয়েরা যখন ইচ্ছা রাস্তায় বেরোবে। যতক্ষণ খুশি ঘুরবে। যেমন ইচ্ছে পোশাক পড়বে। তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।” এই বানান-বিভ্রাট এবং ট্রোলিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই ভুল হোর্ডিংয়ের সঙ্গে তাঁর দফতর বা তাঁর দলের কোনও যোগ নেই। কেউ বা কারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিভ্রান্তিকর কাজ করছেন, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, সরকারি বা দলীয় স্তরে যথাযথ নজরদারি ও স্ক্রুটিনির অভাব অথবা অতি-উৎসাহী কোনও মহলের অপেশাদারিত্বের কারণেই এই ধরণের বড় ভুল প্রকাশ্যে এসেছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি দল তথা সরকারের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। মন্ত্রী নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া রাজ্যের নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় এমন ব্যানার লাগানোর ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পায়। তবে হোর্ডিংটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও, ডিজিটাল মাধ্যমে এই সংক্রান্ত চর্চা ও সমালোচনা সহজে থিতু হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।