ইজরায়েলকে স্বীকৃতির বার্তা, ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ড প্রস্তাব ফুঁসে উঠে প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের!

ইজরায়েলকে স্বীকৃতির বার্তা, ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ড প্রস্তাব ফুঁসে উঠে প্রত্যাখ্যান পাকিস্তানের!

ইরান যুদ্ধ পরবর্তী ভূ-রাজনীতিতে মুসলিমপ্রধান দেশগুলিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আহ্বান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবকে সরাসরি ‘মৌলিক আদর্শ’ বিরোধী বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আমেরিকার এই আমন্ত্রণে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

ইসলামাবাদের নীতি বনাম মার্কিন চাপ

আমেরিকার মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মূল লক্ষ্য হলো ইজরায়েলের সঙ্গে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলির কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। তবে পাকিস্তানের স্পষ্ট অবস্থান, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানায় পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। দেশটির ৭৮ বছরের ইতিহাসে কখনোই ইজরায়েলকে মেনে নেওয়া হয়নি, এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্টেও ইজরায়েল ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে সাড়া দিলে দেশের ভেতরে তীব্র জনরোষের মুখে পড়তে হবে শাহবাজ শরিফ সরকারকে।

সেনা বিতর্ক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি

এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নিয়েও নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডের প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করলেও সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নাম। এর ফলে পাকিস্তানের প্রকৃত ক্ষমতা যে আসলে নির্বাচিত সরকারের বদলে সেনাবাহিনীর হাতেই পুঞ্জীভূত, সেই পুরনো জল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে আরও একবার প্রতিষ্ঠা পেল। এই ঘটনা একদিকে যেমন ইসলামাবাদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কূটনৈতিক দরকষাকষির জায়গাকেও বেশ কঠিন করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *