রাস্তা না দিলে হেলিকপ্টার দিন, ক্ষোভে ফুঁসছেন সুকমার আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দারা

ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার মারুকি গ্রামটি এখন মাওবাদীমুক্ত, কিন্তু নাগরিক সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বেহাল পড়ে থাকা রাস্তার সংস্কার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রশাসনের উদাসীনতার প্রতিবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, সরকার যদি রাস্তা তৈরি করতে না পারে, তবে জরুরি যাতায়াতের জন্য যেন মারুকি গ্রামের বাসিন্দাদের অন্তত একটি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এক দশক ধরে থমকে উন্নয়ন
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ১০ বছর আগে এলাকায় রাস্তা ও কালভার্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদাররা বড় বড় গর্ত খুঁড়ে কাজ শুরু করলেও মাঝপথেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুরো রাস্তা নুড়ি-পাথর ও খানাখন্দে ভরা, যার ফলে বর্ষাকালে গ্রামটি বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলাশাসক পর্যন্ত বারংবার আবেদন জানিয়েও শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব কোনো কাজ হয়নি।
জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব
যাতায়াত ব্যবস্থা আদিম যুগে ফিরে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় আদিবাসীরা। গ্রামে কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার উপায় নেই। ফলে কোনো গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে খাটিয়ায় করে মাইলের পর মাইল পথ পেরিয়ে প্রধান সড়কে আসতে হয়। এমনকি বর্ষাকালে একমাত্র নদীপথের ওপর ভরসা করতে বাধ্য হন তাঁরা। সরকারি স্তরে আদিবাসী উন্নয়নের ঢালাও প্রচার চললেও, মারুকি গ্রামের এই ছবি বাস্তবের কঙ্কালসার রূপটিকেই তুলে ধরেছে।
প্রশাসনের অজুহাত ও বর্তমান পরিস্থিতি
পূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, মাওবাদী উপদ্রবের কারণেই রাস্তা তৈরির কাজ থমকে রয়েছে। কিন্তু খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই এলাকা এখন সম্পূর্ণ মাওবাদীমুক্ত। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বাধা না-ই থাকে, তবে কেন এক দশক ধরে কাজ আটকে রয়েছে? মারুকি গ্রামের বাসিন্দারা এখন কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং অবিলম্বে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।