আদালতের মন্তব্য নিয়ে ব্যবসা করার দিন শেষ, নেটপাড়ার ‘আরশোলা’ আন্দোলনে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি

সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কার্যকলাপে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি উঠল। দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের মৌখিক পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্যকে পুঁজি করে ডিজিটাল মাধ্যমে ‘ব্যবসা’ করার অভিযোগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আইনজীবী রাজা চৌধুরির দায়ের করা এই মামলার জেরে ‘আরশোলা’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনি ও সামাজিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার এই ইস্যুর জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হলে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, “বিষয়টি এত আবেগ দিয়ে নেবেন না।” তবে আদালতের সেই মৌখিক পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে নেটপাড়ায় ঝড় ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের গরিমাকে সস্তা উপহাসে পরিণত করতে বিচারপতির মন্তব্যকে লোগো, ট্রেডমার্ক ও ডিজিটাল ‘মনিটাইজেশন’ বা টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সংগঠিত চেষ্টার বিরুদ্ধেই কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। মামলাকারী তাঁর আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক, বার কাউন্সিল এবং সিবিআই-কে পক্ষ করেছেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে রূপকের পণ্য রূপান্তর
আবেদনে বিখ্যাত সাহিত্যিক ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য মেটামরফোসিস’ উপন্যাসের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিংবা রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রকাশে ‘জঙ্গলরাজ’, ‘ওয়াচডগ’ বা ‘আরশোলা’-র মতো রূপক ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তবে সুস্থ সমালোচনা বা বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আদালতের মন্তব্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। এই ধরনের প্রবণতা দেশের বিচারব্যবস্থার গরিমা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।
ভুয়ো আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য ও বিচারব্যবস্থার সংকট
এই জনস্বার্থ মামলায় শুধুমাত্র ইন্টারনেট ট্রেন্ডের বাণিজ্যিকীকরণই নয়, দেশের বিচারব্যবস্থার আরও একটি বড় সংকটকে সামনে আনা হয়েছে। দেশজুড়ে ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের ক্রমবর্ধমান রমরমা রুখতেও সিবিআই তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জাল আইন ডিগ্রির কারণে বিচারব্যবস্থার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে এর শিকড় উপড়ে না ফেললে সাধারণ মানুষের আইনি সুরক্ষার জায়গাটি বড়সড় হুমকির মুখে পড়বে।