“ডেকেছিলাম, সহযোগিতা করেছেন”— কাকলিকে নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যে নতুন জল্পনা!

কল্যাণীতে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা তিন জেলার এই পর্যালোচনা বৈঠকে বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন আরও তিন বিরোধী বিধায়ক। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এই বেনজির সমন্বয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন।
তৃণমূল সাংসদের ক্ষোভ ও নতুন সমীকরণ
বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আগে নিজের দলেই উপযুক্ত গুরুত্ব পেতেন না। পূর্বতন জমানার কোনো বৈঠকে তিনি বলার সুযোগ পেতেন না বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি অনুযোগ করেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে তৃণমূল সাংসদ অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্যমূলক করমর্দনও করেছেন। যারা দীর্ঘদিন পর সত্যকে স্বীকার করছেন, তাঁদের ‘বিশেষ সাংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে আগামীতেও এমন সহযোগিতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বয়কটের রাজনীতি থেকে প্রশাসনিক সমন্বয়
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিরোধী দলগুলোকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে শামিল করার এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের ‘বয়কটের রাজনীতি’ থেকে সরে এসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি স্তরে আমন্ত্রণ জানানোর নীতি নিয়েছেন। নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এই বৈঠকে বসিরহাটের একাধিক বিরোধী বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর সুফল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই এই পরিবর্তনের মূল কারণ। নির্বাচনের বাইরে রাজনৈতিক তিক্ততা দূরে সরিয়ে রেখে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) বা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের (ওসি) স্তর থেকে সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে মর্যাদা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই প্রশাসনিক সৌজন্যের আড়ালে তৃণমূলের অন্দরে কোনো বড়সড় ভাঙন বা রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।