বুধবারই আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম, এবার কি সহজেই মিলবে ৩ হাজার টাকা?

রাজ্যে বড়সড় সামাজিক প্রকল্পের সূচনা ঘটিয়ে বুধবারই প্রকাশ পেতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনার অফিশিয়াল ফর্ম। কল্যাণী স্টেডিয়ামে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং হুগলি জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে উপভোক্তাদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং আবেদনকারীরা অনলাইন ও অফলাইন, উভয় মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবেন।
এই প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বার্থে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাত্র ৫ টাকায় মিলবে মাছ-ভাত। সাধারণ মানুষের কাছে কম খরচে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।
দ্রুত টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি ও নিয়মের কড়াকড়ি
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হতে পারে। তার জন্য ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা এই নতুন যোজনার সুবিধা পেতে চান, তাঁদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এই ফর্ম কীভাবে জমা দিতে হবে এবং কারা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা বুধবারই বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করবে নবান্ন। সরকারের দাবি, যত দ্রুত এনরোলমেন্ট বা নথিভুক্তিকরণের কাজ শেষ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উন্নয়ন ও সমন্বয়ের বার্তা
কল্যাণীর এই পর্যালোচনা বৈঠকে তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি পরিষেবার খতিয়ান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ স্বরূপনগর, দেগঙ্গা ও হাড়োয়ার বিধায়কদের এই উপস্থিতি রাজ্যের প্রশাসনিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের হাতে সরাসরি আর্থিক ক্ষমতা আসবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, ৫ টাকায় মাছ-ভাতের জোগান নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনিক খাদ্য সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।