বিনামূল্যে সরকারি বাসে চড়ায় আসছে বড় বদল, কারচুপি রুখতে কড়া ব্যবস্থার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

বিনামূল্যে সরকারি বাসে চড়ায় আসছে বড় বদল, কারচুপি রুখতে কড়া ব্যবস্থার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু হতে যাচ্ছে। তবে এই জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায় এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধ করা যায়, তার জন্য বড়সড় প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রথম দিকে ঢালাও ছাড় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে একটি নির্দিষ্ট ‘কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনা হবে।

কারচুপি বন্ধে ‘পিঙ্ক কার্ড’ ও স্ক্রুটিনির কড়া দাওয়াই

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন দপ্তর থেকে ‘পিঙ্ক কার্ড’ নামক একটি বিশেষ পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে। বাসে উঠে এই কার্ড দেখালে কন্ডাক্টর শূন্য টাকার একটি টিকিট কেটে দেবেন। তবে যতদিন না এই কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন ভোটার কার্ড বা রাজ্যের বাসিন্দা প্রমাণকারী যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়েই ফ্রিতে যাতায়াত করা যাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিডিও, এসডিও অফিস এবং পুরসভাগুলির মাধ্যমে এই পিঙ্ক কার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই নতুন কার্ড ব্যবস্থা চালুর পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী সুরক্ষার ফাঁকফোকর ও কারচুপির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ডোমকলে অতীতে পুরুষদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা বর্তমান সরকার কোনোভাবেই হতে দেবে না। এছাড়া পুরুষদের ছদ্মবেশে বাসে চেপে ফ্রি যাত্রার সুবিধা নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা সাধারণ বাস চালক বা কন্ডাক্টরের পক্ষে যাচাই করা আসাম্ভব। এই ধরনের জালিয়াতি রুখতেই কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শুধু বাস পরিষেবাই নয়, সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ ক্ষেত্রেও কড়া স্ক্রুটিনির মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া হবে। একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই প্রকল্পগুলির সুবিধা কেবল ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন, কোনো অবৈধ বিদেশী বা বাংলাদেশী এই সুযোগ পাবেন না।

মা ক্যান্টিনের আধুনিকীকরণ ও জনঅভিযোগ নিরসন

ক্ষমতা বদলের পর রাজ্যের পূর্বতন সরকারের ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাতেও ইতি টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই, বরং এর আধুনিকীকরণ করা হবে এবং এখন থেকে সপ্তাহে দুই দিন এই ক্যান্টিনে মাছ খাওয়ানো হবে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ সরাসরি শোনার জন্য সরকার ‘আপনার সরকারকে বলুন’ নামে একটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে চলেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দেওয়া এই নামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন, যা আগামী দিনে প্রশাসনের জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *