স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে আর নয় মদের দোকান, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থানগুলির পবিত্রতা বজায় রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। কল্যাণী থেকে এক জনসভায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও স্কুল, কলেজ বা মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে আর কোনও মদের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হবে না। মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের এই কড়াকড়ি সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ করে ছাত্রসমাজ এবং যুব সম্প্রদায়ের ওপর মাদকের কুপ্রভাব অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।
সরকারি সমাজকল্যাণ প্রকল্পে বড় বদল
মদের দোকানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জনপ্রিয় সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ যোজনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই নতুন প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১ জুন থেকেই নতুন এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের টাকা দেওয়া শুরু হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনার মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের ধাপে ধাপে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। বর্তমানে যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই নতুন প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার ফর্ম পূরণ ও জমা পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের অর্থ সম্পূর্ণ চালু না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আগের মতোই অ্যাকাউন্টে জমা হতে থাকবে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ ও শহরঞ্চলের পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও দৃঢ় হবে। তবে নতুন ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক করায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) পরিষেবা সক্রিয় করার জন্য উপভোক্তাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।