মাঠে নামছে ৪৮ দেশের বাঘ-সিংহরা! জেনে নিন বিশ্বমঞ্চের দলগুলোর অদ্ভুত সব ডাকনাম

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কেবল মাঠের লড়াই, নিখুঁত পাস আর চোখধাঁধানো গোল নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও উন্মাদনা। আর এই উন্মাদনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেয় দলগুলোর বৈচিত্র্যময় সব ডাকনাম। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলাররা বুট পায়ে নামলেও, গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় এখন প্রাধান্য পাচ্ছে ‘ব্লু শার্কস’ কিংবা ‘ব্ল্যাক স্টার্স’-এর মতো নামকরণের পেছনের গল্পগুলো। প্রতিটি দেশের এই ডাকনামের পেছনে লুকিয়ে আছে তাদের নিজস্ব ইতিহাস, জাতীয় পতাকার রং, ঐতিহ্যবাহী প্রাণী কিংবা প্রাচীন সংস্কৃতির গভীর প্রভাব।
রং, বন্যপ্রাণী ও ইতিহাসের রোমাঞ্চকর মিশেল
ফুটবল বিশ্বের দলগুলোর নামকরণে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখা যায় জাতীয় পতাকার রং এবং হিংস্র বা ক্ষিপ্রগতির পশুপাখির। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনাকে তাদের সাদা-আকাশি জার্সির কারণে ডাকা হয় ‘লা আলবিসেলেস্তে’। অন্যদিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল পরিচিত ‘সেলেসাও’ বা ছোট ক্যানারি পাখির নামানুসারে ‘ক্যানারিনহো’ হিসেবে। ইউরোপের পরাশক্তি ইংল্যান্ডের পরিচয় ‘থ্রি লায়ন্স’ আর ফ্রান্সের ‘লে ব্লু’। গতি ও আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে এশিয়ান জায়ান্ট জাপানকে বলা হয় ‘সামুরাই ব্লু’। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দলগুলোর নামের মধ্যেও রয়েছে রাজকীয় ভাব। যেমন মরক্কোকে বলা হয় ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’ এবং টিউনিসিয়া পরিচিত ‘কার্থেজের ইগল’ নামে। ফুটবলের সঙ্গে ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি মিলিয়ে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সকারুজ’।
ঐতিহ্য বনাম মাঠের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই
এই ডাকনামগুলো কেবলই কিছু পরিচিতি নয়, বরং এর একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে প্রতিপক্ষের ওপর। কেপ ভার্দের ‘ব্লু শার্কস’ (নীল হাঙর), উজবেকিস্তানের ‘হোয়াইট উলভস’ (সাদা নেকড়ে) কিংবা কঙ্গোর ‘চিতাবাঘ’—নামগুলো শুনলেই মাঠে এক ধরনের হিংস্র ও লড়াকু মানসিকতার আভাস পাওয়া যায়। একইভাবে জার্মানির সোজাসাপ্টা ‘দ্য টিম’ বা ঘানার ‘ব্ল্যাক স্টার্স’ তাদের ফুটবলীয় ঐতিহ্য ও আত্মবিশ্বাসকে প্রকাশ করে।
বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে যখন এই ৪৮টি দল মুখোমুখি হবে, তখন মাঠের কৌশলগত লড়াইয়ের পাশাপাশি এই লোকগাথা, ইতিহাস আর সংস্কৃতির প্রতীকী লড়াইও টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। নিচে বিশ্বকাপের দলগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা ও তাদের ডাকনাম দেওয়া হলো:
- আর্জেন্তিনা — লা সেলেসিওন, লা আলবিসেলেস্তে
- ব্রাজিল — সেলেসাও, ক্যানারিনহো
- অস্ট্রেলিয়া — সকারুজ
- বেলজিয়াম — রেড ডেভিলস
- জার্মানি — দ্য টিম
- ইংল্যান্ড — থ্রি লায়ন্স
- ফ্রান্স — দ্য ব্লুজ
- স্পেন — লা রোহা
- পর্তুগাল — টিম অব দ্য শিল্ডস
- নেদারল্যান্ডস — অরাঞ্জে
- ইতালি/অন্যান্য (যোগ্যতা অর্জনকারী) ও কঙ্গো — লেপার্ডস
- জাপান — সামুরাই ব্লু
- দক্ষিণ কোরিয়া — টেগুক ওয়ারিয়র্স, টাইগার্স অব এশিয়া
- সৌদি আরব — গ্রিন ফ্যালকনস
- ইরাক — মেসোপটেমিয়ার সিংহ
- মরক্কো — অ্যাটলাস লায়ন্স
- সেনেগাল — তেরাঙ্গার সিংহ
- ঘানা — ব্ল্যাক স্টার্স
- টিউনিসিয়া — কার্থেজের ঈগল
- মিশর — দ্য ফ্যারাওস
- আলজেরিয়া — ডেজার্ট ওয়ারিয়র্স, দ্য গ্রিনস
- আইভরি কোস্ট — দ্য এলিফ্যান্টস
- কেপ ভার্দে — ব্লু শার্কস
- উজবেকিস্তান — হোয়াইট উলভস
- বসনিয়া — ড্রাগনস, গোল্ডেন联网 লিলিজ
- কানাডা — দ্য রেডস, দ্য কানাকস
- আমেরিকা — স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস
- মেক্সিকো — এল ত্রি, দ্য ট্রাইকোলার
- উরুগুয়ে — লা সেলেস্তে
- কলম্বিয়া — দ্য ট্রাইকোলার
- ইকুয়েডর — লা ত্রি
- প্যারাগুয়ে — দ্য রেড অ্যান্ড হোয়াইট
- ক্রোয়েশিয়া — ব্লেজার্স
- অস্ট্রিয়া — দাস টিম, দ্য বয়েজ
- কুরাসাও — ব্লু ওয়েভ
- চেক রিপাবলিক — দ্য ন্যাশনাল টিম
- হাইতি — দ্য গ্রেনাডিয়ার্স, দ্য রেড অ্যান্ড ব্লু
- জর্ডন — দ্য চিভ্যালরাস ওয়ানস
- নিউজিল্যান্ড — অল হোয়াইটস
- নরওয়ে — রেড, হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু
- পানামা — দ্য ক্যানাল মেন
- কাতার — দ্য ম্যারুনস
- স্কটল্যান্ড — টার্টান Army
- দক্ষিণ আফ্রিকা — বাফানা বাফানা
- সুইডেন — ব্লু-ইয়েলো
- সুইৎজারল্যান্ড — দ্য ন্যাশনাল টিম
- তুরস্ক — ক্রিসেন্ট-স্টারস