বিরোধীদের ঘর নিয়ে বড় ঘোষণা স্পিকারের, ১৮ জুনের বাজেট অধিবেশনে থাকছে লাইভ টেলিকাস্টের চমক!

বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়কদের বসার ঘর নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেন নবনিযুক্ত স্পিকার রথীন্দ্র বোস। মঙ্গলবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উপযুক্ত ঘর বরাদ্দ করা হবে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রোধ করে বিধানসভার অন্দরে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য, তা এদিন স্পিকারের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিধানসভা ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্পিকার। সেখানেই তিনি বিরোধীদের ঘর বণ্টন নিয়ে এই বড় ঘোষণা করেন। এই অনুষ্ঠানে স্পিকারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিধায়ক তাপস রায় এবং বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস।
সৌহার্দ্যের রাজনীতি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
স্পিকার রথীন্দ্র বোস অতীতের প্রসঙ্গ টেনে জানান, বিজেপি যখন বিরোধী আসনে ছিল, তখন তাদের বিধায়কদের পরিকাঠামোগত নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বর্তমান বিরোধী দলের ক্ষেত্রে যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে চান তিনি। বিরোধী শিবিরের অভিজ্ঞ নেতাদের জন্য সমস্ত রকম আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্পিকার। একই সঙ্গে ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির আলাদা ঘরের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, লিখিত আবেদন জমা পড়লে তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
লাইভ টেলিকাস্টের বড় চমক ও সম্ভাব্য প্রভাব
আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিধানসভার বহু প্রতীক্ষিত বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করেই একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন অধ্যক্ষ। এবার থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন এবং তার পরবর্তী পর্বগুলির কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ টেলিকাস্ট করার জোরালো পরিকল্পনা করছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বিশাল প্রভাব পড়তে চলেছে। সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দেখতে পাবেন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনস্বার্থে বিধানসভার অন্দরে কীভাবে কাজ করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিধায়কদের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা অনেক বৃদ্ধি পাবে, তেমনই অন্যদিকে সুস্থ ও মার্জিত বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হবে। স্পিকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ একদিকে বিরোধীদের ক্ষোভ প্রশমিত করবে এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিধানসভার কার্যপ্রক্রিয়াকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।