যুবভারতীর ‘কাটা পা’ মূর্তি ভাঙায় কেন খুশি খোদ রূপকার, অবশেষে মুখ খুললেন শিল্পী সুব্রত

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে থাকা বিতর্কিত সেই ‘কাটা পা’ মূর্তিটি অবশেষে ভেঙে ফেলা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের তত্ত্বাবধানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূর্তিটি ভেঙে ফেলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করলেও, খোদ মূর্তিটির নির্মাতা শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপে অত্যন্ত খুশি ও স্বস্তিতে রয়েছেন।
মূর্তির নেপথ্য কাহিনি ও শিল্পীর অসন্তোষ
কোমর ছাড়া দুটি পেশীবহুল পা এবং তার ওপর বিশ্ব বাংলার লোগো যুক্ত একটি বলয়—এই অদ্ভুত পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল। শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশনায় তিনি এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন, যার প্রস্তাবিত উচ্চতা ছিল প্রায় ১২০ ফুট। তবে শুরু থেকেই এই নকশা নিয়ে শিল্পীর নিজের মনেই সংশয় ছিল। তিনি তৎকালীন কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে এই নকশাটি দেখতে ভালো লাগবে না। কিন্তু নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি মূর্তির অর্থ বা তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেননি।
সমালোচনা থেকে মুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূর্তিটি স্থাপনের পর থেকেই সমাজমাধ্যমে তীব্র ট্রোলিং ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছিল শিল্পীকে। সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি ‘বিদঘুটে’ ও ‘অর্থহীন’ স্থাপত্য হিসেবে পরিচিতি পায়, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের নন্দনতাত্ত্বিক ভাবনাকে আঘাত করছিল। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশে স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার থেকে এই বিতর্কিত পরিকাঠামোটি সরিয়ে নেওয়ায় যুবভারতীর নান্দনিক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে চলা উপহাস ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।