কখনও দ্রুত কখনও ঢিমে, অবাধ্য হৃৎস্পন্দন ডেকে আনছে বড় বিপদ!

কখনও দ্রুত কখনও ঢিমে, অবাধ্য হৃৎস্পন্দন ডেকে আনছে বড় বিপদ!

আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই হৃৎস্পন্দনের প্রতিও আমরা সাধারণত আলাদা করে নজর দিই না। ফলে শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির ছন্দপতন ঘটলেও তা থেকে যায় আড়ালে। চিকিৎসকদের মতে, হৃৎস্পন্দনের এই অনিয়মিত গতি আসলে ‘কার্ডিয়াক অ্যারিদ্‌মিয়া’ নামক একটি বিশেষ রোগ। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা না হওয়ার কারণে এই সমস্যাটি পরবর্তীকালে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

হৃদ্‌যন্ত্রের সঙ্কোচন-প্রসারণ স্বাভাবিকভাবে না হলে শরীরে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যারিদ্‌মিয়ার কারণে হৃদ্‌যন্ত্র খুব দ্রুত, খুব ধীরে বা অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হতে পারে। সব ক্ষেত্র প্রাণঘাতী না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নাড়ির গতি অনুসারে এই রোগ মূলত দুই প্রকার। বিশ্রামরত অবস্থায় হৃৎস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ১০০ বারের বেশি হলে তাকে ‘ট্যাকিকার্ডিয়া’ এবং ৬০ বারের কম হলে তাকে ‘ব্র্যাডিকার্ডিয়া’ বলা হয়। তবে কঠোর পরিশ্রমের পর বা অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ব্যতিক্রম স্বাভাবিক হতে পারে, তাই এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকা জরুরি।

লক্ষণ ও চেনার উপায়

অ্যারিদ্‌মিয়া চেনার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুক ধড়ফড় করা। অনেকের ক্ষেত্রে মনে হতে পারে বুকের ভেতর হৃদ্‌যন্ত্র খুব জোরে কাঁপছে বা স্পন্দনে কোনো ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এছাড়া হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হলে মস্তিষ্কে ও শরীরে ঠিকমতো রক্ত পৌঁছায় না, যার ফলে মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো বা হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বা অল্প হাঁটলেই তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও সারা ক্ষণ চরম ক্লান্তি ভাব এবং বুকে চাপ বা অস্বস্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

শনাক্তকরণ ও করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, ঘরে বসে কেবল অক্সিমিটার বা নাড়ি টিপে স্পন্দনের সংখ্যা জানা গেলেও হৃদযন্ত্রের ছন্দের পতন ধরা সম্ভব নয়। রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাফ, পাল্‌স পরীক্ষা এবং থাইরয়েডের রক্তপরীক্ষা করা জরুরি। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এই রোগের জটিলতা ও বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *