নজরদারি এড়ানো গেল না, রাতের অন্ধকারে ঢোকার পরেই জলঙ্গিতে ধরা পড়ল ৭ বাংলাদেশি!

সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং অবৈধভাবে ভারতে আসা ব্যক্তিদের সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশের পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি চরম রূপ নিয়েছে। এই তৎপরতার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানা এলাকা থেকে নতুন করে সাতজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের লালগোলার নবনির্মিত ‘পদ্মাভবন’ হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
দালালচক্রের মাধ্যমে সীমান্ত পার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে জলঙ্গি থানার বিদুপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই সাতজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূলত কাজের খোঁজেই তারা ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সোমবার রাতে বিএসএফের নজরদারি এড়িয়ে জলঙ্গির সরকারপাড়া সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করে। এরপর বিদুপুর এলাকা দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে মিশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে গোপন সূত্রে আগাম খবর পেয়ে পুলিশ ওত পেতে বসে থাকে এবং মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
বাধ্যতামূলক পুশ ব্যাকের প্রস্তুতি
এই গ্রেপ্তারের ফলে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য সদ্য তৈরি হওয়া লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে চাপ বাড়ছে। গত সোমবারই এই পদ্মাভবন হোল্ডিং সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়, যেখানে শুরুতেই তিনজনকে পাঠানো হয়েছিল। জলঙ্গি থানার এই সাতজনকে যুক্ত করার পর বর্তমানে সেখানে মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শীঘ্রই সরকারি উদ্যোগে এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের ওপারে ‘পুশ ব্যাক’ বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা যেমন কমবে, তেমনই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।