অনুপ্রবেশের জেরে বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস, এবার রুখতে উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়ল কেন্দ্র

অনুপ্রবেশের জেরে বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস, এবার রুখতে উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়ল কেন্দ্র

সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে লাগাতার অনুপ্রবেশের জেরে দেশের সামগ্রিক জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লালকেল্লার ভাষণ থেকে এই পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘ভিশন ডেমোগ্রাফি’ মিশনকে বাস্তবায়িত করতে এবার সরাসরি কার্যকরী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেশের জনবিন্যাসে এই কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক বদল রুখতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির রূপরেখা ও কার্যপরিধি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে গঠিত এই উচ্চস্তরীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞ, আমলা ও বিশেষজ্ঞদের। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে এই কমিটিতে থাকছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ শমিকা রবি। এছাড়াও পদাধিকারবলে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দেশের সেনসাস কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিদেশ সচিবকে। কমিটির মূল কাজ হবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে হওয়া অস্বাভাবিক জনসংখ্যার পরিবর্তন খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তৈরি করা।

সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ধাক্কা

জনবিন্যাসের এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মতে, এই অনভিপ্রেত পরিবর্তন ভারতের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড়সড় বিপদ ডেকে আনছে। এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রাচীন সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজস্ব অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি চরম সংকটের মুখে পড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই কমিটি শুধুমাত্র বহিরাগত অনুপ্রবেশের বিষয়টিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ধর্মান্তকরণ কিংবা জমি দখলের মতো বিষয়গুলো, যা জনবিন্যাসের ভারসাম্যকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করছে, তার সবকটি দিকই খতিয়ে দেখবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি অভিযোগ করে আসছিল যে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা বা আসামের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে পূর্বতন বিরোধী সরকারগুলোর অসহযোগিতার কারণে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছিল না। যার ফলে সীমান্ত লাগোয়া বহু এলাকায় মূল নিবাসী হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেয়ে তারা সংখ্যালঘু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে এই রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণ কেন্দ্রের অনুকূলে থাকায়, মোদি সরকার এই মোক্ষম সময়েই আইনি ও প্রশাসনিকভাবে জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে কোমর বেঁধে মাঠে নামল। এই কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্র আরও কঠোর কোনো আইন বা পদক্ষেপের দিকে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *