পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ ডেপুটি মেয়রের, শিলিগুড়ি পুরসভার তৃণমূলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে শাসকদলের অন্দরে বড়সড় ফাটল দেখা দিল। শিলিগুড়ি পুরসভার তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। মঙ্গলবার সকালে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) গ্রুপে পদ ছাড়ার বার্তা দিয়ে তিনি গ্রুপ ত্যাগ করেন। পুরভোটের পর শিলিগুড়ি পুরবোর্ডে রঞ্জন সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।
বৈঠক বাতিল ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার শিলিগুড়ি পুরসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। স্বয়ং রঞ্জন সরকারই এই বৈঠক ডেকেছিলেন। কিন্তু বৈঠক শুরুর আগেই তিনি দলনেতার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বসেন এবং তড়িঘড়ি নিজেই সেই বৈঠক বাতিল করে দেন। এরপরই দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে তাঁর বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি দলের ভেতরের গভীর মতবিরোধকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, যা নিয়ে পুরসভার অলিন্দে এখন জোর গুঞ্জন চলছে।
মেয়রের প্রতিক্রিয়া ও সমঝোতার চেষ্টা
রঞ্জন সরকারের এই ক্ষোভ এবং আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি রঞ্জন সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে যেখানে একজোট হওয়া প্রয়োজন, সেখানে ডেপুটি মেয়রের এই ক্ষোভ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
এক ঝলকে
- শিলিগুড়ি পুরসভার তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার।
- মঙ্গলবার সকালে দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পদত্যাগের বার্তা দিয়ে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
- রঞ্জন সরকারের নিজের ডাকা পুরসভার পরিষদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি নিজেই বাতিল করেন।
- ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছেন, তিনি রঞ্জনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মেটাবেন।