আইনের ভরসায় এগিয়েও ধাক্কা, অপসারিত বিডিও-র দ্রুত জামিনে হতবাক সাকিল!

আইনের ভরসায় এগিয়েও ধাক্কা, অপসারিত বিডিও-র দ্রুত জামিনে হতবাক সাকিল!

অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিউ টাউনের বাসিন্দা সাকিল আহমেদ। সোমবার রাতে ইকো পার্ক থানা এলাকায় প্রশান্ত বর্মনের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় দুর্ঘটনা ঘটার পর সাকিল আহমেদের নজিরবিহীন তৎপরতা ও সাহসিকতার কারণেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু পরদিনই আদালতে পুলিশের মামলার ডায়েরি বা নথি পেশ না করতে পারার চরম গাফিলতিতে অভিযুক্ত মুক্ত হয়ে যাওয়ায় সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।

হুমকি উপেক্ষা করে সাহসিকতার লড়াই

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সাকিল আহমেদ একাই প্রভাবশালী বিডিও-র গাড়ি আটকে পুলিশে খবর দেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। সাকিল জানান, প্রশান্ত বর্মন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি জেনেও এবং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ মারাত্মক হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি পিছপা হননি। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি সাকিলকে ভয় দেখাতে তাঁর ছবি তুলে রাখলেও, আইনের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।

দ্রুত মুক্তিতে আইনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বপন কামিল্যার রহস্যমৃত্যু মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আগাম জামিন খারিজ করার পর এবং নিম্ন আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন অভিযুক্ত এত দ্রুত ছাড় পেয়ে গেলেন, তা সাকিলের ধারণার বাইরে ছিল। মাত্র এক হাজার টাকার বন্ডে প্রশান্তর এই আকস্মিক মুক্তি সাকিল আহমেদকে গভীরভাবে হতবাক করেছে। বুক চিতিয়ে লড়াই করার পরও অপরাধীর এই অবলীলায় বাড়ি ফিরে যাওয়া সাধারণ নাগরিকের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা চিরতরে নাড়িয়ে দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এক ঝলকে

  • সাকিল আহমেদের একক তৎপরতা ও সাহসিকতার জেরেই সোমবার রাতে নিউ টাউন থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন।
  • অভিযুক্ত প্রভাবশালী জেনে এবং ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও ছবি তোলার ভয় উপেক্ষা করে সাকিল আইনের ভরসায় এগিয়ে যান।
  • গ্রেফতারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আদালতের মাধ্যমে প্রশান্ত বর্মনের দ্রুত মুক্তিতে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাকিল।
  • পুলিশের গাফিলতি ও মামলার নথি সময়মতো আদালতে না পৌঁছনোয় আইনের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *