বক্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক, এবার কি তবে শ্রীঘরে যাচ্ছেন কবীর সুমন!

বক্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক, এবার কি তবে শ্রীঘরে যাচ্ছেন কবীর সুমন!

বরাবরই তিনি ঠোঁটকাটা এবং রাজনৈতিকভাবে স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। তবে নিজের চেনা মেজাজে কথা বলতে গিয়েই এবার বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়াতে চলেছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমন। নারীদের অপমান এবং হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগে সম্প্রতি কলকাতার নেতাজিনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ‘জাতির কথা’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।

অভিযোগকারী সংগঠনের দাবি, সুমন নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করলেও বিভিন্ন সময়ে তিনি বাঙালি সমাজ, হিন্দু ধর্ম এবং নারীদের প্রতি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন। ৩ বছর আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তাঁর করা কিছু বিরূপ মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই মূলত এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, হিন্দু সমাজকে তাচ্ছিল্য করা এবং নারী সম্মানহানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে এই শিল্পীকে জেলে পাঠানোর জন্য যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তাঁরা। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযোগ জমা পড়লেও নিয়ম মেনে প্রাথমিক খোঁজখবর চালানো হচ্ছে, এখনও কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব

কবীর সুমন বরাবরই রাজ্যে বিজেপি-বিরোধী এবং তৃণমূলপন্থী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি অতীতে তৃণমূলের টিকিটে সাংসদও হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর এই আইনি সংকটকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পরেই এই পুরোনো মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা হওয়া এবং থানার দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাটি সুমনের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহলে বাকস্বাধীনতার সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে, অন্যদিকে সুমনের মতো কট্টর হিন্দুত্ব-বিরোধী ব্যক্তিত্বের আইনি টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে পুলিশ আগামী দিনে কী আইনি পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *